বাবুল আক্তার অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়েছিল। এই জন্যই সে পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে’। এর পরেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মিতু বাবা মোশাররফ হোসেন। বহুল আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারসহ সাত জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচারকার্য শুরু হয়েছে। রোববার (১০ এপ্রিল) প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। এ সময় বাবুল আক্তার, আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান মিয়া ও মোতালেব মিয়া প্রকাশ ওয়াসিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলায় জামিনে থাকা এহতেশামুল হক ভোলাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে খায়রুল ইসলাম কালু ও কামরুল ইসলাম সিকদার মুছা পলাতক রয়েছে।
রোববার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম মহানগর পিপি মো. আবদুর রশিদ।
এদিকে বাবুল আক্তারের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ জানান, অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি আবেদন করেন তারা। সাক্ষ্যগ্রহণ ঈদের পরে শুরু করার জন্য সময় চান তারা। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষ ৪৫ মিনিট যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত সাক্ষ্য শুরুর আদেশ দিলে মোশাররফ হোসেন জবানবন্দি উপস্থাপন শুরু করেন।
গত ১৩ মার্চ বিকেলে চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালত চার্জ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন। সরকার পক্ষের কৌশলি জানান, রোববার আদালত সাক্ষ্য গ্রহন মুলতবি করে আগামি ২ মে পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২০ ফ্রেবুয়ারি আসামিদের আদালতে হাজির না করায় অভিযোগ গঠন পিছিয়েছিল। এর আগে ৩১ জানুয়ারি মিতু হত্যায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. জেবুন্নেছা বেগমের আদালত বিচার শুরুর নির্দেশনা দিয়ে তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে নথি পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারসহ সাত জনকে আসামি করে আদালতে দুই হাজার ৮৪ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই অভিযোগপত্র গত বছরের ১০ অক্টোবর গ্রহণ করেন আদালত। ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হয় মাহমুদা খানম মিতু।