আল জামেয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার মহা পরিচালক নিয়ে দীর্ঘ ৪ মাস ধরে চলছে আন্দোলন হামলা-পাল্টা হামলা। বিভিন্ন কারণে মাদরাসার মহা পরিচালক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামজা শিক্ষক ও ছাত্রদের তোপের মুখে গত ২৮ অক্টোবর মহা পরিচালক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামজা পদত্যাগ করেন। মাদ্রাসা থেকে বের হলেও তার অনুসারীরা আন্দোলনের নামে ভাংচুরসহ বিভিন্ন তান্ডব চালায় বলে অভিযোগ করেন মাওলানা আবু তাহের নদভী অনুসারীদের।
বুধবার বিকেলে মাদরাসার মজলিশে শূরা কমিটির জরুরি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। পুরাতন মজলিশে শূরা কমিটির প্রায় অর্ধেক সদস্য মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ে নতুন সদস্য নিয়ে শুরা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে নতুন ও পুরাতন মিলে ২৭ জন উপস্থিত ছিলেন৷ তৎমধ্যে পুরাতন মজলিশে শূরার ১৬ জনের মধ্যে ৮ জন উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনের নামে নেতৃত্ব দিয়েছেন দাবি করে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামজাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং হামলা, ভাংচুরের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ কওমী মাদরাসা আল জামেয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার মহা পরিচালক ওবায়দুল্লাহ হামজাকে নিয়ে দুইটি পক্ষ আন্দোলনে নামে। ওবায়দুল্লাহ হামজার পরিবর্তে মাদরাসার মজলিশে এদারী আহবায়ক মওলানা আবু তাহের নদভীকে মহা পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর ওবায়দুল্লাহ হামজার অনুসারীরা মাদরাসায় হামলা করার অভিযোগ করেন মাওলানা আবু তাহের নদভী অনুসারীরা। দুই পক্ষের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে খোদ পুলিশ প্রশাসনও হিমশিম খাচ্ছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মজলিশে শূরা কমিটির সদস্য হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির, ফটিকছড়ি বাবুনগরী মাদ্রাসার মহতামিম আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি খলিল আহমদ কাসেমী,নানুপুর ওবাইদিয়া মাদ্রাসার মহতামিম মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, জিরি মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি খোবাইব, শুলকবহর মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম, মাওলানা হারুন, ফেনী সর্সদী মাদ্রাসার শুরা সদস্য মুফতি আফজালুর রহমান,পটিয়া রাজঘাট মাদ্রাসার মহতামিম মাওলানা হাবিবুল ওয়াহেদ, পটিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের আহবায়ক মাওঃ আবু তাহের নদভী,পটিয়া মাদ্রাসার প্রধান মজলিসে এদারী হাফেজ আহমদ উল্লাহ, পটিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি সামসুদ্দীন জিয়া,পটিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওঃ জাহেদ উল্লাহ,আন্জুমানে ইত্তেহাদুল মদারিস বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি একরাম হোসেন অদুদী,ব্যবসায়ী হাজী এনাম, পটিয়া উম্মে হালিমা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর রহিম চৌধুরী, পটিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক মাওঃ জসিম উদ্দিন, মাওলানা আমান উল্লাহ,বগুড়া জামিল মাদ্রাসা নির্বাহী মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হক হক্কানি,ঢাকার মাসিক আল আবরার সম্পাদক মাঃ রিজওয়ান জমিরাবাদী, দোহাজারি আজিজিয়া কাশেমুল মাদ্রাসার নায়েবে মহতামিম মুফতি আশেক।
মজলিশে শূরা কমিটির সদস্য মওলানা মো: খোবাইব বলেন, ছাত্র আন্দোলনের নামে মাদরাসার সাবেক মহা পরিচালক ওবায়দুল্লাহ হামজার লোকজন তান্ডব চালিয়েছে। যার কারনে শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হয়েছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের যৌথ স্বাক্ষরে অনাস্থা দেওয়ায় ওবায়দুল্লাহ হামজাকে মাদরাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরর্বতীতে আইনগতভাবে ব্যবস্থাও হবে। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসনসহ যারা ভুমিকা রেখেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।