চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধের ঘটনার মামলায় ৫ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দুপুরে পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বেগম তাররাহুম আহমেদ এ আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার গুলির ঘটনার মামলায় পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- হিলচিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সরু মিয়া (৩৮), মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ আবেদিন (২৮), মৃত সাছি মিয়ার ছেলে আবু তৈয়ব (৪১), মমতাজ মিয়ার ছেলে মো.মনছুর (২১) ও আরেক মামলায় এক বছরের সাজা প্রাপ্ত আবদুল মালেকের ছেলে আবদুল জব্বার (৩৭)।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জসীম উদ্দিন জানান, পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হিলচিয়া এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার মামলায় ৫ জন আসামি বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় আদালতে বিচারক এই মামলার ১ নং আসামি নুরুল আবছার কোথায় তলব করেন।
এ ঘটনায় বাহাদুর ইসলাম খাঁন বাদী হয়ে গত ৮ জুন পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলা দায়ের করলে আদালত এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পটিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলায় মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় পলাতক আসামিরা হলেন ১ নং আসামী হাতিয়ারঘোনা গ্রামের আবদুল ছবুরের ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার নুরুল আবছার, ৮ নং আসামী হিলচিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে রিয়াজ উদ্দিন এবং আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মো. িবেলাল।
জানা যায়, গত ২ জুন রাতে উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা গ্রামে প্রতিপক্ষের উপর গুলি করে হামলার এঘটনা ঘটে। হামলায় মো. সাকিব (২০) নামে একজন গুলিবিদ্ধ সহ দুই জন আহত হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ শাকিবকে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতে নিয়ে আসা হলে কতর্ব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ উন্নত চিকিৎসার তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অপারেশন করে গুলিবিদ্ধ কিশোরের বুক থেকে গুলি বের করাসামার হয়।
জানা যায়, হাতিয়ারঘোনা হিলচিয়া কাজীর জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে তিন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব লেগে আছে। স্থানীয় নুরুল আবছার, নুরুল ইসলাম, মোনাফ গংদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন অপর দুই পক্ষ। তিন পক্ষের দ্বন্ধের জের ধরে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লির সংখ্যা দিন দিন কমে গেছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, গত দুই বছর আগে একটি শিল্প গ্রুপের মসজিদের অনুদানের জন্য দেয়া ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নুরুল আবছার গং আত্মসাৎ করেছেন বলে এমন অভিযোগ করেছেন অপর দুই পক্ষ। এ মসজিদটির একটি পক্ষের সভাপতি নুরুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাহেদ, অপর একটি পক্ষের সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার এবং তৃতীয় আরেকটি পক্ষের সভাপতি নুরুল ইসলাম বান্টু ও সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ। এ তিনটি পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে অসংখ্যবার মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত তিনটি পক্ষের মধ্যে ২০-২৫টি ফৌজদারী মামলা দায়ের হয়েছে আদালতে। এসব মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে গত দুই মাস ধরে তিনটি পক্ষের মধ্যে সহিংসতা অনেকাংশে বেড়ে গেছে।
এদিকে, বিগত ২০২২ সালে ১২ এপ্রিল পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও, ওসি, বিরোধীয় তিনটি পক্ষের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর বিরোধীয় তিনটি কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয় বৈঠকে। এ সময় তিন পক্ষের তিন জন প্রতিনিধি আবুল বশর, জালাল উদ্দিন ও মন্জুরুল ইসলাম কাজলকে নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করে দেন উপজেলা প্রশাসন। মসজিদের দানবাক্সে তালা লাগিয়ে চাবিটি থানা হেফাজতে নেয়া হয়। এরপর থেকেই উক্ত কমিটি শান্তিপূর্ন ভাবে দায়িত্ব পালন করলেও সম্প্রতি সময়ে একটি পক্ষ নুরুল আবসারের নেতৃত্বে এপ্রিল মাসে ২ দফা ও মে মাসে ৪ দফায় প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে । আহতদের পটিয়া, চন্দনাইশ ও চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
গত ২৬ মে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের দেয়া টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায় নুরুল আবসার। কিন্ত একসপ্তাহ হয়ে গেলেও সেই টাকা পয়সা গুলো নিয়ম অনুযায়ী পটিয়া থানা পুলিশের কাছে জমা দেয়নি। এ নিয়ে পটিয়া থানায় দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোন সুরহা হয়নি।
গত ২ জুন এলাকায় জুমার নামাজ উপলক্ষে টানটান উত্তেজনা দেখা দিলে জুমার নামাজের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল ইসলামসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শান্তি পূর্ণভাবে নামাজ শেষ হয়।
অর্ন্তবর্তী কালীন কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম কাজল বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মসজিদে ভক্তদের দান করা পশু (মুরগী ও কবুতর) প্রতিপক্ষের নুরুল আবসারের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা সবকিছু থানাকে অবহিত করেছি।