পঞ্চগড়ে  ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে জনদুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

পঞ্চগড়ে গত তিনদিন ধরে ঝরছে আষাঢ়ের মুষলধারে বৃষ্টি। গত ২৭ ঘণ্টায় ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে করে বন্যা না হলেও কিছু কিছু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্যটি জানিয়েছে জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।
সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, গত দুইদিনের মতো রোববার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।মাঝে মাঝে  কখনো হালকা মাঝারি আবার কখনো মুষলধারায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির কারনে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জনচলাচল কম দেখা গেছে। তবে দুপুরে বৃষ্টি কমে রোদ দেখা গেছে।
ভারি বর্ষনের কারণে গতকাল শনিবার জেলা শহরের বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে করে অনেক বাড়িঘরে পানি উঠায় পরিবারগুলো চরম দূর্ভোগে পড়ে জেলার কায়েত পাড়া, কামাতপাড়া, তেলিপাড়া, নিমনগর, পৌরখালপাড়া, পূর্ব জালাসী-হঠাৎপাড়া, উত্তর জালাসীসহ তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের কিছু গ্রামের মানুষ।
এ বৃষ্টিপাতে বন্যা না হলেও জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। টানা তিনদিন ধরে ভারি বর্ষণের কারণে আয় রোজগার কমে গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। দিনমজুর, পাথর শ্রমিক ও ভ্যানচালকসহ যাদের দৈনিক আয়ের উপর নির্ভর করে চলে জীবিকা। বৃষ্টিপাতের কারণে থমকে গেছে তাদের কর্মহীন জীবিকা।
অপরদিকে নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে পাথর উত্তোলন। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা, ডাহুক ও করতোয়াসহ বেশ কিছু নদীতে পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজার হাজার পরিবার। বর্ষার প্লাবনে নদীগুলোতে পানি বেড়ে যায় বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক।
অপরদিকে বৃষ্টি ঘিরে আমন রোপনের ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। ক্ষেতে পানি জমায় রোপনের উপযোগী করে ধান রোপন করছেন তারা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ্ জানান, গত শুক্রবার থেকে টানা তিনদিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এ জেলায়। গত শনিবার (৬ জুলাই) থেকে রোববার (৭ জুলাই) সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পরে সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পরবর্তী ৩ ঘন্টায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সর্বমোট গত ২৭ ঘন্টায় ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও কয়েকদিন এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।