ন্যাটোর আসন পাওয়ার যোগ্যতা রাখে ইউক্রেন: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, ন্যাটোর আসন পাওয়ার যোগ্যতা রাখে ইউক্রেন। এ সময় রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার ওপর জোর দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। ইস্তাম্বুলে শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন এরদোয়ান।

তিনি বলেন, ‘এতে কোনও সন্দেহ নেই যে ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার যোগ্য। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় ফিরে যাওয়া উচিত।’

এরদোয়ান বলেন, ‘ইউক্রেনের জনগণ তাদের দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতা রক্ষা করছে। সংঘাতের শুরু থেকে আমরা যুদ্ধ প্রতিরোধ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।’

আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য তীব্র প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক।

এরদোয়ান বলেন, ‘ন্যায়সঙ্গত শান্তির কোনও পরাজয় নেই। বিবদমানদের মধ্যে বোঝাপড়ার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শান্তির সন্ধানে ফিরে আসতে হবে।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শুক্রবার যুদ্ধের সাম্প্রতিক অগ্রগতি, কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তি এবং কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণসহ আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তুরস্ক সফর করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল জেলেনস্কির প্রথম তুরস্ক সফর।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগস্টে তুরস্ক সফর করবেন বলে জানিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘আগামী মাসে পুতিন তুরস্ক একটি সফর করবেন। আমরা রাশিয়ান নেতার সঙ্গে বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনা করবো।’

শস্য চুক্তি

কৃষ্ণ সাগরের শস্য চুক্তির বিষয়ে এরদোগান বলেন, ‘আঙ্কারা ১৭ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে চুক্তিটি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ১৭ জুলাইয়ের পর কতদিন চুক্তি বাড়াতে পারি তা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের আশা এটি প্রতি দুই মাসে নয়, প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার বাড়ানো হবে।’

কৃষ্ণ সাগর বন্দর থেকে শস্য রফতানি পুনরায় শুরুর জন্য গত জুনে একটি চুক্তি সই করে জাতিসংঘ, তুরস্ক, রাশিয়া এবং ইউক্রেন। কারণ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার এই পথে শস্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। চালান তদারকি করার জন্য ইস্তাম্বুলে তিন দেশ এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।

তুর্কি কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তির ফলে ৩৩ মিলিয়ন টনেরও বেশি শস্য অভাবী লোকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রাশিয়ান কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মস্কো এই মাসে চুক্তির সম্প্রসারণকে বাধা দিতে পারে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড