নৌকার প্রার্থীর বিদ্রোহীদের তালিকা করছে মিরসরাই উপজেলা আ.লীগ

সদ্য সম্পন্ন হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা জেলা-উপজেলার দায়িত্বশীল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের তালিকা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সোমবার (২২ জানুয়ারি) এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ।

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মিরসরাই উপজেলা শাখা গত ২০ জানুয়ারি মিরসরাই সদরস্থ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বিশেষ যৌথ সভার আয়োজন করে। উক্ত যৌথ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহবুব উর রহমান রুহেলের দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধীতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের ঈগল প্রতীকের পক্ষ নেয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা তৈরি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উপজেলার ২টি পৌরসভা, ১৬টি ইউনিয়ন, মিরসরাই উপজেলা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে সব সদস্য নির্বাচনকালীন নৌকার বিরোধীতা করেছেন তাদেরকে এই তালিকায় রাখা হবে। তালিকাটি তৈরি করার জন্য ২২ জানুয়ারি থেকে আগামী ১ মাস সময় বেঁধে ৫ সদস্যের একটি উপকমিটি ঘোষণা করা হয়। মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়ার নির্দেশনা মোতাবেক বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রসঙ্গে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া জানান, বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তালিকা তৈরির উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা। তারা কেন মননীয় প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের প্রার্থীর ও নৌকার বিরোধীতা করলেন। যারা দল থেকে মনোনয়ন চেয়ে মনোনয়ন পাননি তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার অনুমতি ছিল না। গিয়াস উদ্দিন যদি দলিয় মনোনয়ন না চাইতেন তাহলে কোন কথা ছিল না। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যেহেতু দলিয় মনোনয়ন চেয়েছেন তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন সাথে সাথে আওয়ামী লীগের যে সকল দায়িত্বশীল নেতাকর্মী তার সাথে যুক্ত হয়ে নৌকার বিরোধীতা করেছেন সবাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। আমরা তাদের সকলের তালিকা তৈরি করে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবো।

বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন জানার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের ঈগল প্রতিকের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের সাথে যোগাযোগ করা‌ হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি বলেছেন তা মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ বুঝে উঠতে পারে নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, যারা রানিং এমপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে মনোনয়ন পাননি একমাত্র তারাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন না। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী উন্মুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ঘোষণা মোতাবেক আমরা নির্বাচন করেছি। এখন যারা বিতর্কিত তালিকা তৈরি করতে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তাদের লজ্জা শরম থাকলে এমন করতো না।

তিনি আরও বলেন, মিরসরাইয়ের মানুষ কাকে ভোট দিয়েছে তারা কি জানে না!! তারা কিভাবে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটে জয়ী হয়েছে তারা জানে না! সবকিছু পেছনে ফেলে তাদের উচিৎ সকল আওমী লীগার একত্রিত হয়ে কাজ করা। তারা সেটা না করে আওয়ামী লীগকে ভেঙে দিতে আওয়ামী লীগের বিশাল একটা অংশের তালিকা তৈরি করে তাদের সাথে রেষারেষির পথ উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। তারা নির্বাচন পরবর্তী যাদের উপর হামলা-নির্যাতন করেছে সবাই আওয়ামী লীগের, বিএনপি কিংবা জামাতের নয়। তাদের এমন কর্মকাণ্ড মিরসরাইয়ের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে ধ্বংস করবে।