নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজপথ দখলে রাখার পরিকল্পনা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ সময় দলীয় নেতকর্মীদেরকে রাজপথে সক্রিয় রাখতে নানা কর্মসূচি রাখা হবে। বিশেষ করে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতকর্মীদেরকে ঢাকায় এনে বিশেষ বিশেষ সভা করার কথা চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। এ সময় মূল দলেরও বিশেষ বর্ধিত সভা আয়োজনের চিন্তা আছে দলের নীতিনির্ধারনী নেতাদের। মোদ্দা কথা দলীয় ঐক্য যেনো সবখানে বজায় থাকে। পাশাপাশি ছাত্রলীগ যুবলীগকে রাখা হবে সতর্ক পাহারায়। কেউ যেনো আন্দোলনের নামে বিশংখলা সৃষ্টি করতে না পারে। নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কাজ বর্তমানে শেষের দিকে।

এ পর্যায়ে দলের ছোটখাটো সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। যাতে নির্বাচনে সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাহীন ভূমিকা রাখতে পারে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে বলে জানা গেছে।

গণভবনের একটি সূত্র জানায়, সারা দেশে তৃণমূল থেকে শুরু করে দলের সব পর্যায়ের দ্বন্দ্ব ও সমস্যা নিরসন করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই কাজ শুরু করেছেন কিছুদিন আগে। এরই মধ্যে দুই দফায় ২০ জেলারও বেশি কমিটির নেতাদের নিয়ে গণভবনে মতবিনিময় করেছেন তিনি। সেখানে জেলার নেতারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগঠনের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন দলীয় সভাপতির কাছে।

আগামী নির্বাচনের জন্য কীভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়েও নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন তারা। মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচন খুবই চ্যালেঞ্জিং ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। তাই দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এবং নিজের এলাকায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতে, ‘গত ১৪ বছরে এই সরকার জনগণের জন্য যে উন্নয়ন করেছে, তা অতীতের অন্য কোনো সরকার করতে পারেনি। আমাদের বিশ্বাস জনগণ ভোটের মাধ্যমে এর মূল্যায়ন করবে।’

আওয়ামী লীগ সব দলের অংশগ্রহণে বিশ্বাসী জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তারা সবাই নির্বাচনে অংশ নেবেন, মানুষ ভোট দিয়ে তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাচনে মানুষ ভোট দিয়ে তাদের প্রার্থী নির্বাচিত করেছে। সেখানে যেমন কেউ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেনি, আমাদের বিশ্বাস, আগামীতেও কেউ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে না।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেও তৃণমূল নেতাদের মতামত নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। এর ধারাবাহিকতায় অন্য জেলার নেতাদেরও গণভবনে ডাকা হবে। এরই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারাভিযানে দলের কেন্দ্রীয় এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদেরও মাঠে নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি করতে দলীয় সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

সম্প্রতি বিদেশ সফর শুরুর আগে তিনি এই নির্দেশ দেন। শুধু সদস্য সংগ্রহ নয়, ওই সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকলে তাও সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, সাংগঠনিক কর্মসূচি প্রণয়ন করে দলীয় প্রচারের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে। দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা আরো বলছেন, বিএনপির আন্দোলনে বাধা দেবে না আওয়ামী লীগ। আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবেন। ক্ষমতাসীন দল হিসাবে তারা চান পরিস্থিতি যেন অস্থিতিশীল না হয়। আন্দোলনের নামে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

সহিংস আন্দোলনের পথে হাঁটলে বিএনপিকে প্রতিহতের প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে। শরিক দল ও সমমনাদেরও কাজে লাগাতে চায় তারা। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি। আড়ালে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর কোনো পরিকল্পনাও যেন নিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে তারা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ দেশ বর্তমানকে বলেন, আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি। তারা যখন এক দফা নিয়ে নামবে আমরা রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করব। আওয়ামী লীগ সরকারে আছে। আমরা চেষ্টা করব পরিস্থিতি সব সময় স্বাভাবিক রাখতে। এখন যেমন তাদের আন্দোলন কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে না। সরকার জনগণের জানমাল রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগও ক্ষমতাসীন দল হিসাবে জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কিন্তু এক দফা আন্দোলন বা আন্দোলনের নামে যদি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়, সেটা তো মানা হবে না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপির কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তাদের আন্দোলনটাও তেমনি। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আসলে ধূম্রজাল তৈরির অপচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের রাজনৈতিক দল। জনগণই আমাদের প্রাণভোমরা। আমরা চাই জনগণের শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকুক। এটা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সব সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আমরা কাউকে জ্বালাও-পোড়াও বা জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে দেব না। কেউ এই অপচেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তাদের প্রতিহত করা হবে।

এদিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের শেষের দিক থেকে টানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের পর নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি দলটির।