নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত সিপিবি-বাসদ

দেশ বর্তমান প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশ (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। নির্বাচনে অংশ নিতে ৩০০ সংসদীয় আসনেই প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা করছে বামপন্থি ধারার ৯টি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপও রয়েছে আলোচনায়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি করতে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে ইস্যুভিত্তিক আলোচনার জন্য ডাকলে বামগণতান্ত্রিক জোট পরিস্থিতি বুঝে সেই আলোচনায় অংশ নেবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিসহ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে জোটটি। সংলাপে গেলেও তারা এই আন্দোলন থেকে সরে যাবে না। এমনকি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বা অন্য কোনো জোটেও তারা অংশ নেবে না। নিজেদের জোটে থেকেই নির্বাচনে যাবে।

জোট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে সিপিবি ও বাসদ তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে। ভোটে গেলে দুটি দলই ১০০টি করে আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে সিপিবি, বাসদ বা বাম জোটের পক্ষ থেকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথাই বারবার বলা হচ্ছে।

জোটের নেতা-কর্মীরা বলছেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে বাম গণতান্ত্রিক জোট প্রায় সব আসনেই প্রার্থী দেবে। একইসঙ্গে ঢাকায় করা হবে শোডাউন। অক্টোবরের শেষের দিকেই ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। মহাসমাবেশের জন্য থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রস্তুতিও চলছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাম গণতান্ত্রিক জোট ১৫০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছিল ৮০টি আসনে। তবে সিপিবিসহ জোটের কোনো প্রার্থীই নির্বাচনে জয় পাননি। বাম জোটের নেতারা মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হলে তাদের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে জয় পেতেন। ভোট সুষ্ঠু হয়নি বলেই তাদের কোনো প্রার্থী জয় পাননি।

জাতীয় নির্বাচনে বাম দলগুলোর জয়লাভের ইতিহাস অবশ্য কখনোই সমৃদ্ধ নয়। জোটের বৃহত্তম এবং দেশের বাম ঘরানারও বৃহত্তম দল সিপিবির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য একই কথা। কেবল গত নির্বাচনেই নয়, মাত্র দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া আর কোনো নির্বাচনেই তাদের কোনো প্রার্থী জয় পাননি। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির পাঁচজন করে প্রার্থী জয় পেয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর আর কোনো নির্বাচনে সিপিবির প্রতীকে কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য হননি।