বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে না ফেরার দেশ পাড়ি জমিয়েছেন সাবেক জিম্বাবুয়াইন ক্রিকেটার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।
স্ট্রিকের মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার দেশের কয়েকজন ক্রিকেটার। সামাজিক মাধ্যম টুইটারে হেনরি ওলেঙ্গা লিখেছেন, ‘দুঃখের সংবাদ, হিথ স্ট্রিক পরপারে চলে গেছেন। শান্তিতে থেকো কিংবদন্তি। তোমার সঙ্গে খেলাটা আনন্দের ছিল। যখন আমার বোলিং স্পেল শেষ হয়ে যাবে, তখন পরপারে তোমার সঙ্গে দেখা হবে।’
১৯৯৩ সালে ১০ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্ট্রিকের দেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল। এর পরে জিম্বাবোয়ের হয়ে ১৮৯টি ওয়ানডে এবং ৬৫টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। জিম্বাবোয়ের সাবেক অধিনায়কও ছিলেন হিথ।
লাল বলের ক্রিকেটে ২২.৩৫ গড়ে ১৯৯০ রানের রেকর্ড করেছেন এবং খেলার দীর্ঘতম এই ফরম্যাটে ২৮.১৪ গড়ে ২১৬ উইকেট নিয়েছেন এই জিম্বাবুয়ে কিংবদন্তি । এবং সাদা বলের ক্রিকেটে ২৯৪৩ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ২৩৯টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
অন্যদিকে টেস্টে ১০০ আর ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট নেওয়া একমাত্র জিম্বাবুইয়ান বোলারও তিনিই। চলতি শতকের শুরুর দিকে তিনি অধিনায়কত্ব করেন জিম্বাবুয়ের, যখন ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতির কারণে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন।
তিনি নিজেও অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন তেমনই এক ঘটনায়। ২০০৪ সালে অধিনায়কত্ব ছাড়ার এক বছর পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন মাত্র ৩১ বছর বয়সে। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেন এই কিংবদন্তি।
ক্রিকেটীয় জীবন শেষে মন দিয়েছিলেন কোচিংয়ে। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের কোচিং প্যানেলে ছিলেন তিনি। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন হিথ স্ট্রিক। জিম্বাবুয়ের হয়েও একাধিকবার কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঝে কলকাতা নাইট রাইডার্স, সমারসেটের মতো দলেরও কোচ বনেছিলেন স্ট্রিক।
তবে ২০২১ সালে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে আইসিসি তাকে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। আর শেষে ক্যানসারের কাছে হার মেনে জীবনপ্রদীপও নিভে গেল অকালেই।
এমএইচএফ