নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি পিছিয়ে ১৬ জুলাই নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) বিচারপতি মোস্তাফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির এ দিন ধার্য করেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অবকাশকালীন ছুটি বিবেচনায় এ তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।
এর আগে গত ১৭ মে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষে এ আবেদন করেছেন আইনজীবী কায়সার কামাল। গত ১৯ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।
সেদিন খালোদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে হাজিরা দিয়েছেন। এ সময় বিচারক আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ? এ সময় অন্য আসামিরা নিজে এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান৷ এরপর আদালত তাদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের আদেশ দেন।
কানাডিয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সাথে করা চুক্তির মাধ্যমে দেশ ও রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করে। এরপর ২০১৮ সালের মে মাসে খালেদা জিয়াসহ আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
একই মামলায় অন্যান্য আসামীদের মধ্যে আছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
এমএফ