সামুদ্রিক বাণিজ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় আকৃতির জাহাজ (মাদার ভেসেল) থেকে পণ্য খালাস করা হবে। দুইশ মিটার দীর্ঘ ও ১০ ফুট গভীরতার জাহাজ-‘এমভি কমন অ্যাটলাস’ থেকে সোমবার (১৬ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য খালাসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর প্রবেশ করতে যাচ্ছে নতুন যুগে। এ উপলক্ষে সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ব্রাজিল থেকে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন চিনি নিয়ে মাদার ভেসেলেটি ইতোমধ্যে নিউমুরিং কনটেনার টার্মিনালে (এনসিটি) নোঙর করেছে। ১০ জানুয়ারি জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। মেঘনা গ্রপের সহযোগি প্রতিষ্ঠান-ইউনাইটেড শিপিং লাইন জাহাজটির এদেশীয় এজেন্ট। আগামি ১৯ জানুয়ারি বন্দর ত্যাগের সিডিউল রয়েছে জাহাজটির।
চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক সমুদ্র হিসেবে কাগজে-কলমে স্বীকৃতি পেলেও ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশের মতো উপযোগী ছিল না বন্দর চ্যানেল (কর্ণফুলীর মোহনা হতে জেটি পর্যন্ত)। নাব্যতা সমস্যার কারণে বহির্নেঙরে মাদার ভেসেলে থেকে পণ্য খালাস করতে হয়। আবার প্রকৃতির বৈরী আচরণের কারণে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ রাখতেও হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ সাড়ে নয় মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ জেটিতে নোঙর করে পণ্য ওঠানো-নামানো করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) নিজস্ব অর্থায়নে কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে জেটি পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ থেকে পলি অপসারণ করে গভীরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে ১০ মিটার গভীরতার বড় আকৃতির জাহাজ জেটিতে নোঙর করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এসব বড় আকৃতির জাহাজে ৪ হাজার টিইইউএস (বিশ ফুট একক) বেশি কনটেইনার পরিবহন সম্ভব হবে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৭ মিটার গভীরতা এবং ১৬০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ জেটিতে প্রবেশ করতে পারতো। পরবর্তীতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ১৯৮০ সালে ৮ মিটার গভীরতার ১৭০ মিটার দীর্ঘ, ১৯৯০ সালে সাড়ে ৮ মিটার গভীরতার, ১৮০ মিটার দীর্ঘ, ১৯৯৫ সালে ৯ মিটার গভীরতার ১৮৫ মিটার দীর্ঘ এবং ২০১৪ সালে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতার ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ জেটিতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক এ প্রতিবেদককে বলেন, জাহাজটি থেকে পণ্য খালাসের জন্য চবকের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষামূলকভাবে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ জেটিতে নোঙরের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি সফলভাবে সম্পন্নের পর বিভিন্ন শিপিং কোম্পানীগুলোকে বড় আকৃতির জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে প্রেরণের জন্য পত্র দেওয়া হবে।
বিজিএমইর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বড় আকৃতির এসব জাহাজগুলোতে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার কনটেইনার পরিবহন সম্ভব। এসব জাহাজে পণ্য পরিবহন করা গেলে সমুদ্রপথে আমদানি-রফতানি ব্যয় আরো কমে আসবে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং বহির্নোঙ্গরে প্রতি বছর ৪ হাজারের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ আসছে। এসব জাহাজে ৩২ লাখ কনটেইনার এবং ১১ কোটি মেট্রিক টন কার্গো পণ্য আসে।