প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য এসেছি, নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয়। তিনি আরও বলেন, আমার দেশের অর্থ অন্যকে দিয়ে সেখান থেকে দুর্নীতি করব, এই মানসিকতা আমাদের নেই। এই শিক্ষা বাবা-মা আমাদের দেয়নি।
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কালশী বালুর মাঠে মিরপুর-কালশী ফ্লাইওভারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পদ্মাসেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি, বাংলাদেশ পারে। বিশ্ব ব্যাংক অর্থ প্রত্যাহার করায় বহু হোমরা চোমরারা তখন বলেছিল, পদ্মা সেতু হবে না। আমরা করে দেখিয়েছি। পদ্মাসেতু নিমার্ণ একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিতে চেয়েছিল, এখানে নাকি দুর্নীতি হয়েছে। আমি বলেছিলাম, প্রমাণ করতে হবে দুর্নীতি হয়েছে। আমি আমার দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাদের পাশে ছিল বিধায় পদ্মা সেতু করতে পেরেছি।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বহু উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা মেট্রোরেল করেছি। একসঙ্গে ১০০ সেতুর উদ্বোধন করেছি। পাতাল রেল হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শহীদ দিবস। মাতৃভাষায় কথার অধিকার অর্জনের জন্য আমার দেশের ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে রক্তের অক্ষরে লিখে দিয়েছিল, মাকে মা বলে ডাকতে চাই। আমি আজকে সেই সকল ভাষা শহীদদের আমার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
কালশী বালুর মাঠের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম।
ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী সার্কেলের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৩৩৫ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মিত হয়েছে। এ ড়া এই প্রকল্পের আওতায় ইসিবি স্কোয়ার থেকে কালশী পর্যন্ত ৩.৭০ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। একনেক ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকল্পটিকে অনুমোদন দেয়।
বিএনসিসি ও বাংলাদেশ আর্মি (২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) ১ হাজার ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে। প্রকল্প বিবরণী অনুযায়ী, ফ্লাইওভারটি ইংরেজি ‘ওয়াই’ অক্ষরের মতো। এই প্রকল্পে যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ করার লক্ষ্যে আগের চার লেনবিশিষ্ট রাস্তাগুলোকে ছয় লেন করা হয়েছে। প্রধান চার লেনবিশিষ্ট ফ্লাইওভারটি ইসিবি স্কোয়ার থেকে কালশী ও মিরপুরের ডিওএইচএস হয়ে গেছে। দুই লেনবিশিষ্ট র্যা ম্পটি কালশী মোড় থেকে শুরু হয়ে কালশী সড়কে যাবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পাবলিক রিলেশন অফিস জানায়, প্রকল্পটির আওতায় একটি পিসি গ্রিডার ব্রিজ, দুটি ফুলওভার ব্রিজ, একটি পাবলিক টয়লেট, দুটি পুলিশ বক্স, একটি ৭.৪০ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, একটি ১৭৫৫ মিটার আরসিসি পাইপ ড্রেন, ৩ হাজার ৩৮৩ মিটার যোগাযোগ তার, পৃথক সাইকেল লেন ও ছয়টি বাস বে নির্মাণ করা হয়েছে।