আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামে প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন কারখানায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। খড়, কাঠ, সুতা আর মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে মা দুর্গার প্রতিমা। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমার কাঠামো তৈরি। শুরু হয়েছে মা দুর্গার রং ও সাজসজ্জার কাজ। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে তাদের শেষ সময়ের ব্যস্ততা।
বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের সব চাইতে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজাকে ঘিরে সারাদেশে চলছে সাজ সাজ রব। চট্টগ্রামের মন্ডপগুলোতে চলছে পূজোর প্রস্তুতি। চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকার প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমার কাঠামো তৈরি কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। চলছে রং-তুলিতে মা দূর্গাকে ফুটিয়ে তোলার কাজ। দম ফেলারও ফুরসত নেই কারিগরদের। কথা হয় ২৪ বছর বয়সী শুভ মন্ডলের সঙ্গে। রং-তুলিতে নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন মা দূর্গার টানা টানা দুটি চোখ। কাজের ফাঁকে বিশ্রামের সময় প্রতিমা শিল্পী শুভ মন্ডল বলেন, ৮ বছর যাবত এই পেশায় কাজ করছি। পেটের দায়েই এসেছিলাম এ পেশায়। তবে এখন নিজের কাজকে ভীষণ ভালোবাসেন শুভ মন্ডল। তিনি বলেন, দিনরাত পরিশ্রম করলেও দেবী যখন স্বরূপে মণ্ডপে বসেন তখন কষ্টগুলো যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়।
একই কারখানায় কাজ করেন আরও বেশ কয়েকজন প্রতিমা শিল্পী। তাদের মধ্যেই একজন নন্দ কুমার পাল। ২৩ বছর বয়সী নন্দ কুমার বলেন, নিজের হাতে তৈরি প্রতিমাকে যখন সবাই পূজা করে তখন নিজেকে বেশ সফল মনে হয়। প্রতিমা তৈরির কারখানাটি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন তুলশী রঞ্জন পাল। তিনি একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিমা শিল্পী। তিনি জানান, এ বছর প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। গতবছর এসময়ে আমরা ৩৫টা প্রতিমার কাজ পেলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-এ। তাই শিল্পীদের উপর চাপটাও একটু বেশি পড়ছে। রঞ্জন পাল জানান, এই কারখানায় তৈরি প্রতিটি প্রতিমার বিক্রয় মূল্য ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
দীর্ঘক্ষণ কথা হয় জ্যেষ্ঠ প্রতিমা শিল্পী তুলশী রঞ্জন পালের সাথে। গল্পের এক পর্যায়ে হতাশ কন্ঠে তুলশী রঞ্জন বলেন, আমরা জন্মের পর থেকেই দেখছি পেশাগত ভাবে একাজটি পাল সম্প্রদায়ের। পালদের কাজই হচ্ছে মাটির কাজ করা, মাটির সাথে মিশে থাকা। এটা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তিনি বলেন, আমাদের দুঃখ দূর্দশার কথা কেউ শোনে না। আমার দাদার দাদাদের সময় থেকে আমরা এ পেশার সাথে জড়িত। তবে সুযোগ সুবিধা ও সরকারের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় আমাদের সন্তানরা আর এই পেশার সাথে থাকতে চায় না।
চট্টগ্রামের প্রধান পূজা মন্ডপ জেএম সেন হলসহ এবার ১৬টি থানায় মোট ২৯৩টি পূজা মন্ডপ তৈরি হচ্ছে যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। পূজাকে উদ্দেশ্য করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নানা ধরণের প্রস্তুতি হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি। এবছর পূজা মন্ডপ বাড়ায় দুর্গোৎসব জমজমাট হবে মনে করছেন আয়োজকরা।
এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজাকে নির্বিঘ্ন করতে এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে রয়েছে নানা ধরণের নির্দেশনা। রেলওয়ে পূজা মন্ডপ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিআরবি পূজা কমিটির আহ্বায়ক শান্তনু দাশ বলেন, প্রতিবছর সিআরবিতে আমরা পূজার আয়োজন করে থাকি। সেক্ষেত্রে পূজোয় পূজার্থিদের নিরাপত্তায় সব সময় সতর্ক থাকি। পূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক অবকাঠামো প্রতিবারের মতো এবারও জোরদার করা হয়েছে।