থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হতে পার্লামেন্টে পর্যাপ্ত ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন পিটা লিমজারোয়েনরাত।
অথচ, গত মে মাসে দেশটির সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় পিটার মধ্য-বামপন্থি দল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি।
প্রায় এক দশকের বিতর্কিত সামরিক শাসনের পর মে মাসের ওই নির্বাচনে থাইল্যান্ডের ভোটাররা সামরিক বাহিনী সমর্থিত দলগুলো থেকে চরমভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
বিবিসি জানায়, পিটা ও তার মিত্ররা থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ২৪৯ আসনের সেনেটে জয়লাভ করতে পারেনি।
এই ২৪৯ সেনেটরের সবাই পূর্ববর্তী সেনা সরকার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত।
এছাড়ও, পিটা শেষ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। যেগুলোতে তিনি যেকোনো সময় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। যদিও তিনি নির্বাচনের কোনো ধরণের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) হওয়া পার্লামেন্টারি ভোটে হেরে যাওয়ার পর পিটা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি প্রথম রাউন্ডের ভোটের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তবে এও বলেন, ‘‘আমি এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। ”
ভোটের আগে অবশ্য জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির এই নেতা। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি আমার লক্ষ্য তুলে ধরতে এবং সেনেটরদের সমস্ত সন্দেহ দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ”
সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন পাওয়া সরকারকে ‘নানাভাবে দেশ পরিচালনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে’ বলেও তিনি বলেছিলেন।
পিটা বলেন, ‘‘আমাদের দেশে ক্ষমতায় যাওয়ার পথে এসব খুবই স্বাভাবিক…। ”
শুধু পার্লামেন্টের ভোটেই হেরে যাওয়া নয়, বরং নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে আরো একটি ঝটকা খেয়েছেন পেটা। কারণ, নির্বাচন কমিশন থেকে পিটাকে অযোগ্য ঘোষণা করতে যে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বুধবার (১২ জুলাই) তা গ্রহণ করেছে থাইল্যান্ডের দারুণ রক্ষণশীল সাংবিধানিক আদালত।
মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির নেতার বিরুদ্ধে যে দুইটি অভিযোগ সাংবিধানিক আদালত মূল্যায়ন করে দেখার কথা বলেছে তার একটি হলো: পিটা এমন একটি মিডিয়া কোম্পানির শেয়ারের মালিক যেটি ১৫ বছর ধরে অচল পড়ে আছে।
থাইল্যান্ডে প্রচলিত রাজকীয় মানহানি বিষয়ক আইন সংশোধনের যে প্রস্তাব মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি করেছে, দ্বিতীয় অভিযোগটি করা হয়েছে সেটির ভিত্তিতে।
থাইল্যান্ডের আইনে সে দেশের রাজা, রাজতন্ত্র বা রাজপরিবারের বিরুদ্ধে মানহানিকর কিছু বলা বা করা গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচিত হয়।
শুধুমাত্র রাজা, রাজতন্ত্র বা রাজপরিবারের সমালোচনা করার কারণে সেখানে শত শত মানুষ জেল খাটছে।
নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়, প্রচলিত রাজকীয় মানহানি বিষয়ক আইন সংশোধনের প্রস্তাব রেখে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি আদতে থাইল্যান্ডের পুরো রাজনৈতিক শৃঙ্খলাকেই উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সাংবিধানিক আদালতে কবে নাগাদ এই দুই অভিযোগ নিয়ে মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হবে তা এখনো জানা যায়নি বলেও জানায় বিবিসি।
তবে কৌশলগতভাবে পার্লামেন্ট থেকে যথেষ্ট ভোট না পেলেও পিটার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এদিকে, থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচা রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। গত নয় বছর ধরে তিনি দেশটি শাসন করছেন।
২০১৪ সালে সেনাপ্রধান প্রায়ুথের নেতৃত্বেই নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করেছিল।