‘তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চাই’

চট্টগ্রামে ১৬ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন ৫ মুখ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের বিপরীতে দলের প্রার্থী হতে মনোনয়ন চেয়েছেন ২১৭ জন। তবে চট্টগ্রামে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুরনোদের পাশাপাশি চমক এসেছে ৫টি আসনে। দল ও জোটের হেভিয়েট প্রার্থীদের টপকে ৫টি সংসদীয় আসনে নৌকার টিকেট পেয়েছে নতুন ৫ মুখ। তারা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে মাহবুবুর রহমান রুহেল, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে খদিজাতুল আনোয়ার সনি, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে এস এম আল মামুন, চট্টগ্রাম- ৫ আসনে আব্দুস সালাম ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া ১৬ আসনের মধ্যে বাকী ১১ আসনের বর্তমান সাংসদরা দলের প্রার্থী হিসাবে অপরিবর্তিত রয়েছেন। চট্টগ্রামে নৌকার বহরে যুক্ত হওয়া নতুন ৫ মুখের সাথে কথা হয়েছে দৈনিক দেশ বর্তমানের। তারা সকলেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের নীতি নির্ধারকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে নিজ এলাকার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে দলকে স্ব-স্ব আসনে জয় উপহার দেবেন। পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।

গতকাল রবিবার বিকালে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম থেকে দলের মনোনয়ন পাওয়া নতুন ৫ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেন।

আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ পুত্র মাহবুবুর রহমান রুহেল দেশ বর্তমানকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। গত দুই বছর ধরে কাজ করছি দলের জন্য, পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছি অনেক আগে থেকে। বিশেষ করে এই এলাকায় আমার বাবার (ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন) ৫৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি এবং উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত, ফলে ওনার (বাবার) স্বপ্ন পূরণেও কাজ করব। আধুনিক মিরসরাই গড়তে দলের সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান আগামী নির্বাচনে মিরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী।

আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া সাবেক সাংসদ (সংরক্ষিত) খাদিজাতুল আনোয়ার সনি দেশ বর্তমানকে বলেন, আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। বহুদিন পরে ফটিকছড়ির মাটি ও মানুষের আকাঙ্খা পূরণ হয়েছে দলীয় প্রার্থী পেয়ে। সাথে থাকার জন্য আমার এলাকার (ফটিকছড়ি) সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। দলের তৃণমুলের নেতা-কর্মিদের সাথে নিয়ে আগামীতে এই আসনটি দলকে উপহার দেব। আধুনিক ফটিকছড়ি নির্মাণ ও স্মার্ট বাংলাদেশ করতে সকলের সহযোগিতাও চান এই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে দলের মনোনয়ন পাওয়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন দেশ বর্তমানকে বলেন, বাংলাদেশের আশা-ভরসার প্রতীক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। দীর্ঘদিন দলের সাথে কাজ করেছি এবার দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। দলের মূল্যায়ন কাজে লাগাবার এবং সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। দলের সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান বলেও জানান সীতাকুণ্ডের দলের এই প্রার্থী।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মনোনয়ন পাওয়া ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম দেশ বর্তমানকে বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শতকোটি শুকরিয়া পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞা। দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মীকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ায় হাটহাজারীবাসীর কাছে আজ খুশির আমেজ। দীর্ঘদিন পর দলের নেতা-কর্মীদের কাছে দলীয় প্রার্থীর পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আধুনিক হাটহাজারী এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দলের তৃণমূলের নেতা কর্মিদের সাথে কাজ করার ঘোষণাও দেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে দলের মনোনয়ন পাওয়া এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী দেশ বর্তমানকে বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতির উপহার হিসাবে নৌকার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ। আগামী নির্বাচনে দলের নেতা-কর্মিদের সাথে নিয়ে দলকে জয় উপহার দিতে চাই। পাশাপাশি পটিয়ায় উন্নয়ন ও দলকে সু-সংগঠিত করতে সকলের সহযোগিতাও চান চট্টগ্রামের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

এছাড়া চট্টগ্রামে যে ১১ জন বর্তমান সাংসদ দলের আবারও মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন- চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) নোমান আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) এম আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে দুই বর্তমান সাংসদ বাদ পড়েছেন তারা হলেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের দিদারুল আলম ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সামশুল হক চৌধুরী। তবে চট্টগ্রাম-২ (মিরসরাই) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবার মনোনয়ন চাননি। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে জোটের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদের আসনে আওয়ামী লীগের দুজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত,আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। যেখানে ১৬টি আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন ২১৭ জন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নতুন এবং পুরাতন নিয়ে চট্টগ্রামে ১৬ জনকে বেছে নিলেন আওয়ামী লীগের মনোননয়ন বোর্ড।

 

দেশ বর্তমান/এআই