তফসিলের পর চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিসংযোগ বাড়ার আশঙ্কা

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য যেকোনো সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর সতর্কতা, টহল বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করেছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। দুই ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। এতে ঢাকার ৫০ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপি সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর ঢাকায় চোরাগোপ্তা হামলা এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে – এমন গোয়েন্দা তথ্য থেকেই ডিএমপির এ নির্দেশনা। এসব চোরাগোপ্তা হামলা কীভাবে মোকাবিলা করা যায় – সভায় এসব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও সভার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

তবে বৈঠকে অংশ নেয়া ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অবরোধে গাড়িতে আগুন দেয়া প্রতিরোধ করতে মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাস পার্কিং করে রাখা হয় এমন এলাকাগুলোয় টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অগ্নিসংযোগের ঘটনা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতেও ডিএমপি কমিশনার নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৈঠকে ডেমরা ও মিরপুর অঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। বৈঠকে বলা হয়েছে, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকায় সবচেয়ে বেশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ডেমরা ও মিরপুর অঞ্চলে। ডেমরা অঞ্চলে ১১টি গাড়িতে এবং মিরপুর অঞ্চলে ৮টি গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সঠিক নজরদারির অভাবে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার কথাও বৈঠকে উঠে এসেছে।