তথ্য ফাঁস: নাম এল জন্ম নিবন্ধনের সাইটের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অস্বীকার

সরকারি যে ওয়েবসাইট থেকে নাগরিকদের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সাইটকে তদন্তের আওতায় আনার কথা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানালেও এই দপ্তরের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশে লাখ লাখ নাগরিকের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অভিযোগের আঙুল স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ওয়েবসাইটের দিকে। সূত্র; বিডিনিউজ

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক গতকাল মঙ্গলবার জানান, নাগরিক তথ্য সুরক্ষা এবং জন্ম নিবন্ধনের ওয়েবসাইট থেকে ‘তথ্য উন্মুক্ত’ হওয়ার ঘটনার তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের ফেইসবুক পোস্টে একথা রেখেন তিনি।
তবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) মো. রাশেদুল হাসান বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নে বলেন, তাদের সিস্টেম থেকে কোনো তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষ্য, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ওয়েবসাইট আগেও সুরক্ষিত ছিল, এখনও আছে। যেভাবে বলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।

তাহলে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যে তথ্য ফাঁস বা তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে সেটা আসলে কী- এমন প্রশ্নের উত্তরে রেজিস্ট্রার জেনারেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এটা বলছে, যারা বলার বলছে। এর সঙ্গে আমরা একমত নই।’
গত কয়েকদিন ধরে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চললেও কোন সাইট থেকে নাগরিকদের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, তা জানাননি দায়িত্বশীল কেউ। প্রতিমন্ত্রী পলকের ফেইসবুক পোস্টেও প্রথম সাইটের নাম এল।

তিনি সেই ফেইসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘যেভাবে বিভিন্ন প্রেস মিডিয়ায় তথ্য চুরি হয়েছে বলে প্রচার হচ্ছে এটা সত্য না, সিস্টেমে দুর্বলতা থাকায় ওয়েবসাইটে তথ্যগুলো দেখা যাচ্ছিল। আমরা দেখেছি যে, আরও তিনটি পরিকাঠামোতে দুর্বলতা রয়েছে, অর্থাৎ তারা ঝুঁকিপূর্ণ।

এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভালনারেবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্ট বা ভিএপিটি করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়মিত তদারকি করবে বাংলাদেশ ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম বা বিডি ই-গভ সার্ট। সেগুলোকেও নিরাপদ করতে কাজ করা হচ্ছে।’

সার্ট’র প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সাইফুল আলম খান মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা আলোচিত সেই সাইটটিতে ভিএপিটি করে দেখছেন সেটি নিরাপদ কি না। এছাড়া তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। তাই এ বিষয়ে তারা গণমাধ্যমে আর কোনও কথা বলতে চান না।

এর আগে সোমবার তিনি বলেছিলেন, নিয়মিত নজরদারিতে ওই ওয়েবসাইটের দুর্বলতার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। জুনের প্রথম সপ্তাহেই চিঠি দিয়ে ওই দপ্তরকে ওয়েবসাইটের দুর্বলতার বিষয়টি জানানো হয়। তবে তারা সেটি ঠিক করেনি।”