ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ
ভুক্তভোগী ছাত্রী অন্য ধর্মাবলম্বী সম্প্রতি ওই শিক্ষক আরেক নারীকে বিয়ে করেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভিন্ন ধর্মের ছাত্রীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন ওই শিক্ষক। এরই মধ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর তিনি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ৮ অক্টোবর বিভাগের চেয়ারপার্সনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযোগের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জিয়া রহমান ও প্রক্টর মাকসুদুর রহমানকেও পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তার ব্যক্তিগত জীবন, একাকিত্ব, উচ্চশিক্ষাসহ নানা বিষয়ে কথা বলতেন। গত বছরের ২৫ এপ্রিল ওই শিক্ষক তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে এই প্রস্তাব নাকচ করেন ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, “আমি তাকে স্বাভাবিক আচরণ করতে বলা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় ফোন করে, মেসেজ দিয়ে আমার প্রতি তার দুর্বলতার কথা শেয়ার করতেন। একপর্যায়ে আমিও তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে যাই। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে গত বছরের ৩ অক্টোবর আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়।” ভুক্তভোগী ছাত্রী আরও বলেন, “সম্পর্কের কিছুদিন পর তিনি আমাকে তার বাসায় আসার প্রস্তাব দেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর তার বাসায় গেলে তিনি প্রথমদিকে স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরে আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এ ঘটনায় আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। তখন তিনি আমাকে বিয়ে করবেন বলে আবারও আশ্বস্ত করেন এবং এমন কথাও বলেন যে প্রয়োজনে দেশের বাইরে বসবাস করবেন।” তিনি আরও বলেন, “সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত শিক্ষক তার বাসায় আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর আবারও একই প্রস্তাব দিলে আমি প্রত্যাখ্যান করি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর তিনি আমার কাছে গোপন করে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এটি আমি জানতে পারি ২৪ সেপ্টেম্বর। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হলে আমাকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।” এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জিয়া রহমান সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “এটা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা একটা ভালো প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। ভুক্তভোগী যাতে ন্যায়বিচার পান, সেভাবেই আমরা কাজটা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে।”