মুক্তিপণ না পেয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে এক কিশোরকে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর থেকে নিখোঁজের চারদিন পর, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থেকে নুরুন্নবী নামের কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
মো. নূরুন্নবী ও মো. হুসাইন দুই বন্ধু। সোমবার (২১ আগস্ট) হুসাইনের জন্মদিন উদ্যাপন করতে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম আসে দুই বন্ধু। তারপর থেকে তারা নিখোঁজ।
মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) রাতে বিভিন্ন ইমো নাম্বার থেকে বার্তা পাঠানো হয় নুরুন্নবীর পরিবারকে। ছেলেকে ফেরত দেয়ার কথা বলে। বুধবার (২৩আগস্ট) ৫০ হাজার টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।
টাকা দিতে রাজি হয় নুরুন্নবীর পরিবার। তবে শর্ত হিসেবে নূরুন্নবীর ভিডিও চাইলে অপহরণকারীরা ভিডিও পাঠায়। ভিডিও দেখে পরিবার নিশ্চিত হয় চট্রগ্রামের ষোলশহর রেলস্টেশনে ধারণ করা হয়েছে ভিডিওটি।
স্বজনরা চট্রগ্রামের ষোলশহর স্টেশন থেকে উদ্ধার করে সিসিটিভি ফুটেজ। সেই ফুটেজে দেখা যায় নূরুন্নবীকে। যেখানে বুঝা যাচ্ছিল কেউ একজন তার ভিডিও করছে। অপহরণকারীদের পাঠানো ভিডিওর সাথে সিসিটিভি ফুটেজের মিলও পাওয়া যায়। সেই ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রামে রওয়ানা দেয় স্বজনরা।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে চট্রগ্রামের পাচলাইশ এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ভিডিও মিলিয়ে দেখা যায় সেটি অপহৃত নূরন্নবীর। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরিবারে কাছে। সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় নুরন্নবীর মরদেহ।
পরিবারের অভিযোগ, অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে সব তথ্য দেয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিকতার অভাবে নুরুন্নবীকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। পরিবারটির অভিযোগ পুলিশ একটু আন্তরিক হলে হয়তো কিশোরটিকে জীবিত উদ্ধার করা যেতো।
এদিকে একইদিন একই সাথে নিখোঁজ হওয়া হুসাইন নামের এক কিশোর এখনো নিখোঁজ। হুসাইনের পরিবার জানায়, তারা একসাথে পাশাপাশি বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে। থানায় জিডিও করা হয়েছে।
হুসাইনকে দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফেরত এনে দেওয়া ও যারাই এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছে পরিবার দুটি ।