ঢাকার রাস্তায় কবে নামবে ইলেকট্রিক বাস?

পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় নভেম্বর মাসের মধ্যে ঢাকার রাস্তায় ৮০টি ও চট্টগ্রামে ২০টি ইলেকট্রিক বাস নামাতে চেয়েছিল সরকার। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহনটি রাস্তায় নামানো সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালে এই বাসগুলো নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করে সরকার। পরের বছর তৈরি করা হয় নীতিমালা। এ বছর “ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত” সেই নীতিমালা অনুমোদনও হয়। তবে সমস্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় বা চট্টগ্রামের রাস্তায় দেখা মেলেনি ইলেকট্রিক বাসের। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতীয় ঋণ সহায়তা চুক্তি “লাইন অব ক্রেডিট” (এলওসি) আওতায় বিআরটিসির জন্য এই বাসগুলো কেনার কথা। এই ঋণ সহায়তার সব ধরনের কাগজপত্র জমা দিয়েছে বাংলাদেশ; বিষয়টি জানানোও হয়েছে ভারতীয় হাইকমিশনে। তবে ঋণ এখনো পাস হয়নি। সেই প্রক্রিয়া এখনো চলমান। ভারত ঋণছাড় করা মাত্রই ইলেকট্রিক বাস নিয়ে আসার বিষয়টি দ্রুত এগোবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, “বাস নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান। আশা করছি দ্রুত দেশে ইলেকট্রিক বাস নিয়ে আসতে পারবো।” তবে নির্দিষ্ট করে কোনো সময় বলেননি তিনি। তিনি বলেন, “চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটি বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় বিষয়; ফলে সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি; দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।” আধুনিক এই গণপরিবহনটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে বিআরটিসির হাতে। তাদের বিভিন্ন ডিপোতে রাখা হবে বাসগুলো। সেখানেই চার্জ করার ব্যবস্থা রাখা হবে। বিআরটিসির সূত্র জানা যায়, এই বাসগুলোর জন্য দক্ষ চালক তৈরিতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে সরকার। এছাড়া কোনা যন্ত্রাংশের অভাবে যেন বাসগুলো অকেজো হয়ে না পড়ে সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার আগে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নতির কথা বলেছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরাও। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান ভাষ্যমতে, “ইলেকট্রিক বাস আমাদের দেশে নতুন। এই বাসগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা প্রয়োজন। তা না-হলে বাসগুলো সড়কে যুক্ত করার কিছুদিনের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়বে।” তিনি বলেন, “এ জন্য ওয়ার্কশপ প্রস্তুত করতে হবে; বিদেশের ওপর নির্ভর না করে দেশি টেকনিশিয়ান তৈরি করতে হবে, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠা-নামার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এমন প্রস্তুতিগুলো নিয়ে রাখতে হবে। তোড়জোড় করে প্রস্তুতি ছাড়া বাসগুলো রাস্তায় নামালে তা নষ্ট হয়ে পড়ে থাকবে। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়।” এ বিষয়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যারা থাকবেন এবং চালকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।”