ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের নিরাপত্তায় দেড় শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। মঙ্গলবার (১৬ মে) একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে তিনি এ তথ্য জানান।
শাহরিয়ার আলম বলেন, সৌদি আরবের ক্লাব, দূতাবাস, বাসভবনসহ কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় ৪৮ জন পুলিশ মোতায়েন আছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের নিরাপত্তায় ২৯ জন দায়িত্ব পালন করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ১৫৮ জন নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন। তাদের এসব নিরাপত্তা অব্যাহত থাকবে। শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বাড়তি সুবিধা প্রত্যাহার হবে।
বিবিসি জানায়, ব্রিটেন, আমেরিকা, সৌদি আরব ও ভারতের কূটনীতিকদের জন্য পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে কূটনীতিকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, পরে দেখা গেছে, এটা আসলে মূলত ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্সের কাজটাই করতো। তাদের যে আসল নিরাপত্তার ব্যবস্থা সেটা অপরিবর্তিত আছে।
সচিব বলেন, এখন বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো আছে। এ জন্য বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন দেখছে না বাংলাদেশ সরকার।
তিনি বলেন, বিদেশি যেসব দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূতরা আছেন, তাদের যে বেসিক নিরাপত্তা আছে সেটা আমরা কখনোই কম্প্রোমাইজ করব না। এটুকু আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আনসারের স্পেশাল ব্যাটালিয়ন অনেকদিন ধরেই তৈরি করা হচ্ছিল।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সৌজন্যমূলক আচরণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি প্রটোকল হিসেবে পুলিশি এসকোর্ট সুবিধা দেওয়া হতো।
অর্থাৎ রাষ্ট্রদূত বা কূটনীতিকরা যাতে দ্রুত চলাচল করতে পারে, এ জন্য একটি গাড়িতে পাঁচ থেকে আটজন পুলিশের মাধ্যমে রাস্তা ট্রাফিক মুক্ত রাখার বাড়তি সুবিধা দেওয়া হতো।