ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)-এর সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ডিমের দাম সাড়ে ১২ টাকার বেশি আমরাও চাই না। ’
রোববার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)-এর সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ডিমের দাম সাড়ে ১২ টাকা হলে সেটি আমাদের কাছে ন্যায্য হয়। ডিমের দাম এর ওপরে হোক এটি আমরাও চাই না।
মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে এখন প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি ডিম দরকার। উৎপাদন হচ্ছে চার কোটি বা ৪ কোটি ২০ লাখ। কখনো-কখনো আরও কম হচ্ছে। এটি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। এখানে যদি উৎপাদন ১০ লাখ কমে তাহলে কিন্তু ক্রাইসিস (সংকট) হয়ে যায়।
বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে ছোট খামারি পর্যায়ে খরচ সাড়ে ১০ টাকা ও বড় খামারি পর্যায়ে ১১ টাকা। তাই ধরা যায় একটি ডিম উৎপাদনে খরচ সাড়ে ১০ থেকে ১১ টাকা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন ‘এই ব্যবসায় নানান ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। হঠাৎ করে গরম হলে মুরগি মারা গেল। ডিজিজ আসলেও নানান সমস্যা হয়। হঠাৎ বৃষ্টি আসলো। দেখা যায় বৃষ্টির আওয়াজের ভয়ে মুরগির উৎপাদন কমে গেল। ’
এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন ‘এই ব্যবসায় নানাবিধ সমস্যা, সংকট। এত টাকা ইনভেস্ট করে কখনো লাভ হয়, কখনো লস হয়। এই অনিশ্চয়তার কারণে বেশির ভাগ খামারি কিন্তু নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এখন হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে অনেক খামার বন্ধ। যাদের খামারগুলো বড় ছিল তারাও ছোট করে ফেলেছে। তাতে মোট উৎপাদন কমেছে। ’
যদি খামারগুলোকে উৎসাহ দেওয়া যায়, বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে যে খামারগুলো হচ্ছে, তাদের যদি ভর্তুকি দেওয়া যায় এবং সরকারের নানান সহযোগিতা পায়, আমার মনে হয় আবার বেডে উঠতে পারে নতুন নতুন খামার।
প্রসঙ্গত, গত বছরের এই সময়ে প্রতি ডজন ডিমের দাম উঠেছিল ১৫৫ টাকা। তবে বর্ষা শেষে তা আবার কমে যায়। চলতে বছরের গত মাস পর্যন্ত ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হয় ডিম। এর পর থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে পণ্যটির দাম।
উৎপাদন কম হওয়ায় দেশে ডিমের দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।