প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছর পেরিয়ে গেলেও উন্নত হয়নি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ব্যাংকিং সিস্টেম। আজও সেকেলে পদ্ধতি তথা অ্যানালগ সিস্টেমে চলে চবির অগ্রণী ব্যাংকের কার্যক্রম। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে অনলাইন ব্যাংকিং চালু থাকলেও দেশের অন্যতম স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় চবিতে এখনও চালু হয়নি।
২১০০ একরের সর্ববৃহৎ ক্যাম্পাসের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী ও নয়শত শিক্ষকের লেনদেনের জন্য রয়েছে মাত্র একটি ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকটিতে লেনদেনের পদ্ধতি ডিজিটাল না হওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষীর্থীদের। ভর্তি ফি, ফর্ম ফিলাপের ফি, পরীক্ষার ফিসহ যাবতীয় বিভিন্ন কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
অনলাইন ব্যাংকিং ডাটাবেজ ও ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এসব কিছু থেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অথচ সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করলে হাতের নাগালেই সকল সুবিধা পাওয়া যেত। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য কর্তৃপক্ষের নেই কোনো পদক্ষেপ। প্রতিবছর আশার বাণী শোনালেও হাতে কলমে দৃশ্যমান নেই কোনো কাজ।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হয়েছে। শুরু হয়েছে ফর্ম ফিলাপও। কিন্তু ব্যাংকের অ্যানালগ সিস্টেমে ধীর গতির ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জটলা, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সারি, শেষ হচ্ছে না দুর্ভোগ।
অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিচ্ছেন। এছাড়াও ব্যাংকের ভেতরে নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা। এমনকি লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ব্যাংকের ভেতর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

টাকা জমাদানে ভোগান্তির শিকার ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাদিউল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল দেশ গঠনে অন্যান্ন দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে চবির এই সনাতন পদ্ধতি খুবই লজ্জাজনক। আমাদের ফরম ফিলাপের টাকা জমা দানের তারিখ পরীক্ষার ঠিক কয়েকদিন আগ মুহূর্তে ঘোষণা হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতি বাদ দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হছে অন্যদিক রীতিমত ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সাকিব বলেন, আমরা ব্যাংকে টাকা পেমেন্টের ব্যাপারে এক ধরনের অস্থিরতায় ভুগি কখন যাব, ফাঁকা থাকবে কিনা, ইত্যাদি। তাছাড়া এই টাকা প্রদান করার জন্য আমাদের ৪ থেকে ৫ জায়গায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে হয়, যা এক ধরনের হয়রানি। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ যাতে অতিদ্রুত সিস্টেমটা ডিজিটালাইজড করে, যাতে আমাদের ছোট ভাইদের কষ্ট না হয়।
তবে এ বিষয়ে আশার আলো দেখিয়েছেন চবি আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম। খুব শিগগির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় পেমেন্ট সিস্টেমকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের যাবতীয় পেমেন্টের বিষয়টি অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি দীর্ঘদিন ধরেই। ইতিমধ্যে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তাদের সাথে আমাদের মিটিংও হয়েছে বেশ কয়েকবার। আমাদের ক্যাম্পাসেও তাদের প্রতিনিধিরা এসেছেন। আশা করি খুব শিগগির পেমেন্ট সিস্টেমটা ডিজিটালাইজ করে ফেলতে পারব।