টেকনাফের গহীন পাহাড়ে অস্ত্র কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ৬

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার রঙ্গিখালী গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। এসময় ৬ ডাকাতকে গ্রেপ্তার, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে থেকে র‌্যাব-১৫ এর একটি দল হ্নীলার রঙ্গিখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে অবস্থানরত একটি ডাকাত চক্রকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করে।  এ সময় ঘটনাস্থালে একটি অস্ত্র তৈরীর কারখানা আবিষ্কার করে র‌্যাব।

এ সময় ডাকাত দলের অস্ত্রের কারখানা থেকে দুইটি একনলা লম্বা বন্দুক, চারটি এলজি, একটি অর্ধনির্মিত এলজি, সাত রাউন্ড শটগানের কার্তুজ, ১০ রাউন্ড রাইফেলের কার্তুজ, একটি ড্রিল মেশিন, একটি আগুন জ্বালানোর মেশিন, দুইটি লেদ মেশিন, দুইটি বাটাল, দুইটি লোহার পাইপ, দুইটি প্লাস এবং তিনটি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ সদর দপ্তরে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক।

গ্রেপ্তাররা হলেন, হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকার ফয়সাল উদ্দিন ওরফে ফয়সাল (৪০), টেকনাফ পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়ার মো. বদি আলম ওরফে বদাইয়া (৩৫), একই এলাকার মো. সৈয়দ হোসেন (৩২), পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়ার মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫), দক্ষিণ আলীখালীর মো. কবির আহাম্মদ (৪৩), উলুছামারি কুনারপাড়ার মো. মিজানুর রহমান (২৬)।

মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক জানান, ওই অঞ্চলের গহীন পাহাড়ে একাধিক ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।  তারা এলাকাবাসী এবং পর্যটকদের নানাভাবে হয়রানিসহ খুন, অপহরণ ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল।  তারা র‌্যাবের নজরদারিতে ছিল।

তিনি জানান, অভিযানে একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়।  এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা র‌্যাবের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে।  তখন ধাওয়া করে ফয়সাল বাহিনীর মূলহোতা ফয়সালকে আটক করা হয়।  জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ডাকাত দল চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে।  তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও জানান, চক্রটি ফয়সাল ডাকাতের সরাসরি নেতৃত্বে ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা এবং হত্যাসহ নানা অপরাধ করে আসছিল।

তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সেখানে তারা অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিল।  ফয়সাল বিভিন্ন সময়ে তার অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের কাছে অস্ত্র সরবরাহ ও অপরাধ চালিয়ে আসছিল।  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শেষে তারা পুনরায় গহীন পাহাড়ে তৈরীকৃত আস্তানায় আত্মগোপনে চলে যেত।

তিনি জানান, ফয়সালের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।  এছাড়া বদি আলম ওরফে বদাইয়ার বিরুদ্ধে ১৪টি, মো. কবির আহাম্মদের বিরুদ্ধে দুইটি, মো. সৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি, মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।