টি-টোয়েন্টি সিরিজও খোয়ালো মেয়েরা

এমনিতেই ১৪৫ রানের বেশি টার্গেট তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই মেয়েদের।  গতকাল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও পারল না।  প্রথমটিতে জয়ের পর নির্বিষ বোলিং আর ব্যাটিং ব্যর্থতায় পরের দুই ম্যাচ হেরে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মেয়েদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের সিরিজ খোয়াল জ্যোতিরা।

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।  জবাবে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।  আর তাতে লঙ্কান মেয়েদের জয় ৪৪ রানের বড় ব্যবধানে।

১৫৯ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে হিমশিম খায় বাংলাদেশ।  স্কোরবোর্ডে দলীয় রান মাত্র ৩ তুলতেই প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা।  রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন রুবাইয়া হায়দার।  এরপর ফারজানা হক ও সোবহানা মোস্তারি মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি।  ২০ বলে ১০ রান করে সপ্তম ওভারের শুরুতেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ফারজানা।  সোবহানা ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।  ২৫ বলে ৩০ রান করে এই টপ অর্ডার ব্যাটার যখন বিদায় নেন, তখন বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ মাত্র ৫০ রান।

এরপর মন্থর ব্যাটিং আর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় টাইগ্রেসরা।  যা একটু প্রতিরোধ গড়েছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা।  ৩৩ বলে ৩১ রান করে তিনি বিদায় নিলে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।  সেই বিপর্যয় আর কাটেনি।  বরং বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।  কেউই দুই অঙ্ক টপকাতে পারেননি।

এর আগে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের।  ১১ ওভারে লঙ্কানদের রান ছিল ৩ উইকেটে ৬৩। দ্রুত উইকেট নেওয়া এবং রানের লাগাম টেনে রাখা, দুটোই ততক্ষণ পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই করছিল জ্যোতিরা।  তবে হুট করেই ঘুরে যায় খেলার মোড়।  বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হতে শুরু করেন লঙ্কান মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার নিকাশী ডি সিলভা এবং হারসিথা সামারাবিক্রমা।  তাতে রানটা চলে যায় বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের খানিকটা বাইরে।

এদিন সবচেয়ে খরুচে ছিলেন অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম।  ষোড়শ ওভারে ফাহিমা খাতুনের বলে মিড অফে এতটা সহজ এক ক্যাচ ছাড়েন তিনি, চাইলেও যেটি ছাড়া কঠিন। তখন ১৮ রানে জীবন পাওয়া নিলাকশি ডি সিলভা পরে জাহানারার ওপর দিয়েই শেষ ওভারে চালান তাণ্ডব।  তিন ছক্কা ও এক চারে ওই ওভার থেকে আসে ২৪ রান।  মূলত ওই ওভারেই রানটা বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।  ১৯ ওভারে ১৩৪ থেকে ২০ ওভারে ১৫৮ রান করে শ্রীলঙ্কা।

লঙ্কানদের হয়ে ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন নিকাশী।  ৩৯ বলের ইনিংসে সমান চারটি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।  ৪২ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত ছিলেন হার্সিথা।