চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ডাচদের হারিয়ে হ্যাটট্রিক জয় তু্লে নেওয়ার সুযোগ থাকছে আজ অস্ট্রেলিয়ার সামনে। বিশ্বকাপের চলমান আসরে প্রথম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে দারুণ উড়তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা পা কেটেছে ‘ডাচ শামুকে’। বিশ্বকাপে খেলা পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তারা কেবল ডাচদের বিপক্ষে হেরেছে। একই পরিণতি বরণ করতে চায় না অস্ট্রেলিয়াও। সে কারণে স্কট এডওয়ার্ডসের দলকে সমীহ করার কথা জানিয়েছেন অজি অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া জোড়া সেঞ্চুরি পেয়েছিল। ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ২৫৯ রানের জুটি গড়েন মিচেল মার্শ। ডাচদের বিপক্ষে নামার আগে মার্শ বলছিলেন, ‘এটা বিশ্বকাপ। এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নেদারল্যান্ডসকে সমীহ করি। ওরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে এবং লড়াইটাও কঠিন হবে।’ স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটিতে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় ভারত। তাতে হারের যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। যন্ত্রণার শেষ এখানেই হয়নি। নিজেদের পরের ম্যাচে অজিরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৩৪ রানের বড় ব্যবধানে হারে। তবে এরপরেই ঘুরে দাঁড়ায় ১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১৫ সালের জয়ীরা। তৃতীয় ম্যাচে এসে অস্ট্রেলিয়া প্রথম জয়ের দেখা পায়। শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারায় দলটি। পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়ে টানা জয় তুলে নেয় প্যাট কামিন্সের দল। অন্যদিকে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যাওয়া নেদারল্যান্ডসের প্রত্যাবর্তন হয় তৃতীয় ম্যাচে। চলতি বিশ্বকাপে বিস্ময় জাগানো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৮ রানে হারায় ডাচ বাহিনী। তবে পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারও হার দেখে নেদারল্যান্ডস। এবার অজিদের বিপক্ষে বড় পরীক্ষা দিতে মাঠে নামছে তারা। বিশ্বকাপ মঞ্চে এখন পর্যন্ত দু’বার মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া-নেদারল্যান্ডস। দু’ম্যাচেই জয় পেয়েছে অজিরা। ২০০৩ বিশ্বকাপ আসরে ৭৫ রানে এবং ২০০৭ সালে ২২৯ রানে ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ওই দুটি ম্যাচ খেলেছে দু’দল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আজ এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। মার্কাস স্টোয়নিসের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন ক্যামেরুন গ্রিন। এদিকে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলছে ডাচরা। নেদারল্যান্ডস একাদশ: বিক্রমজিৎ সিং, ম্যাক্স ওডাউড, কলিন অ্যাকারম্যান, বাস ডি লিড, তেজা নিদামানুর, স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক/উইকেটরক্ষক), সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখ্ট, লোগান ভ্যান বেক, রোয়েলফ ভ্যান ডার মেরওয়ে, আরিয়ান দত্ত, পল ভ্যান মিকারেন। অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ, স্টিভেন স্মিথ, মারনাস লাবুশেন, জশ ইংলিশ (উইকেটরক্ষক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ক্যামেরুন গ্রিন, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জাম্পা।