জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী বলেছেন, আজকে একটি পরিবার জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। যাদের পিতা মাতাকে হত্যা করা হয়েছিল, যে সকল সেনাবাহিনী কর্মকর্তাকে জিয়াউর রহমান হত্যা করেছিল। ধীরে ধীরে তাদের সকল পরিবার হয়ত জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করবে।
শনিবার (১৩ মে ) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর ইউনিয়নে কুতুবপুর সামছিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত বহুতল ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
এদিন চিফ হুইপ কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদে শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির ক্যাম্পিং ও পূর্ব কুতুবপুর হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবনির্মিত বহুতল ভবনের উদ্বোধন করেন।
চিফ হুইপ বলেন, অন্য দল নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নেই। অন্য দল নিয়ে সমালোচনার কিছু নেই। সময়ের চেয়ে বড় সত্যি আর কিছু নেই। সময়ের কারণে অনেক কিছু ঢেকে রাখা যায়, সময়ের কারণে অনেক কিছু প্রকাশ পায় না। আবার একদিন সময়ের কারণে সত্যি প্রকাশ পায়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যে সকল মুক্তিযোদ্ধা সেনাবাহিনীকে হত্যা করা হয়েছিল আজকে তার পরিবার সাহস করে জিয়াউর রহমানের নামে মামলা দিয়েছে। এই পরিবর্তন হলো সামাজিক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন হলো শেখ হাসিনার পরিবর্তন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও পরে জেলহত্যাসহ সকল হত্যার যে নীল নকশা ছিল তা বাংলার মাটিতে প্রকাশ পাবে। এটাই বিএনপির ভয়। তারা ভয় পায় আওয়ামী লীগ যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে যেমন যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে তেমনি সকল হত্যাকারীদের বিচার আগামীতে হবে। এই কারণে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষের কাছে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে তার দারি করা হচ্ছে। তবে সেই সব দাবিতে কোন কাজ হবে না। স্বাধীনতা সংগ্রামে রক্তের বিনিময়ে এই সংবিধান। এই সংবিধান যা আছে বঙ্গবন্ধু কন্যা বেঁচে থাকলে এই সংবিধানের আলোকেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় গিয়ে এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাঁসি ফোটাবে।
চীফ হুইপ আরো বলেন, ১৯৯৬ সরকারের সময় আমরা পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন করেছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পরে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পদ্মা সেতু করে দিয়েছেন। আজ পদ্মা সেতুর সুফল আমরা পাচ্ছি। আমাদের এই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলেছে।
এসময় মাদারীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ আ. লতিফ মোল্লা, পৌরসভার মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম, পৌরসভা আওয়ামী লীগ সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।