বশির হোসেন খান: চাকরিতে প্রবেশের সময়ই নিয়েছেন মিথ্যা ও জালিয়াতির আশ্রয়। তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদার সেই চাকরি করে ১৪ বছরে ঢাকা শহরে গড়েছেন একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট। কোটি কোটি টাকার সম্পদ করেছেন নামে-বেনামে। তবে শেষ রক্ষা হচ্ছে না। তথ্য গোপন করে অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চাকরি নিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) শওকত আহমেদ। অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জাগৃক কর্তৃপক্ষ।
এত বছর চাকরি করার পর বরখাস্ত হলেও তার পূর্বে গ্রহণ করা সকল সুযোগ সুবিধাই থেকে যাবে। তবে চাকরি জীবনে বেতনের বাইরে যদি কোন আয় করে থাকেন তাহলে সেগুলো ফেরত দেয়া লাগতে পারে বলে জানা গেছে। এজন্য বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর আস্থা রেখেছে মন্ত্রণালয়। কিভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি নিয়েছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত ছিল, সব খুঁজে বের করতে চায় মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, শওকত আহমেদ দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। নিজের এবং তার আত্মীয় স্বজনদের নামে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন। আবার কোথাও কোথাও বরাদ্দ নিয়ে সেগুলে আবার বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শওকত আহমেদ এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০০৫ এর বিধি ৩৭ (খ) এবং ৩৭ (চ) অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২০০৯ সালের ১১ জানুয়ারি অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগ পান শওকত আহমেদ। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার চাহিদা দেয়া হয়েছিল সেটি না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে যান। তৃতীয় শ্রেণির পদে চাকরি নিলেও একের পর অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নেন এই শওকত। দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
তখন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে কোন স্বীকৃত বোর্ড হতে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগে/জিপিএ ২ (গ্রেড-সি) পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে উল্লেখ ছিল। তবে শওকত আহমেদ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগে চাকরির সময় যে সনদ জমা দেন তাতে এইচএসসি সমমানের আলীম পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তের পরিপন্থী। বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্ত চলমান।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে। মামলায় তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যেহেতু আপনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগের জন্য আবেদন করে অবৈধভাবে ও নিয়োগবিধি লঙ্ঘণ করে চাকুরি লাভ করেন। তাই জাগৃক (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০০৫ অনুযায়ী কেন আপনাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে না বা উপরোক্ত বিধিমালার বিধানমতে অন্য কোন উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে বলেছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মুনিম হাসান সাক্ষরিত এক আদেশে শওকত আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এবিষয়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শওকত আহমেদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা চেষ্টা করেও তার কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, বিষয়টি দুদকে যাবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে স্থায়ী বরখাস্ত হবেন। যারা তখন চাকরি দিয়েছেন, কেউ হয়তো অবসরে গেছে কেউ হয়তো বেঁচেও নেই। সেটা দুদক খুঁজে বের করবে। সে যে বেতন ভাতা নিয়েছে সেগুলো ব্যাখা দিতে হবে।