জামিনে বেরিয়ে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের দুই নেতাকে গ্রেফতার

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলেন আব্দুল কুদ্দুস (৫৭) ও মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে সালাউদ্দিন (৩৫)। তাদের রাজধানীর মালিবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এরমধ্যে আব্দুল কুদ্দুস ১০ বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আসেন।  এরপর ২০২২ সাল থেকে আব্দুল কুদ্দুস এবং সিরাজুল ইসলাম আত্মগোপনে থাকা আরও বেশ কয়েকজনকে নিয়ে একটি বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করে আসছিলেন।  সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, গ্রেফতার আব্দুল কুদ্দুস হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের যশোর জেলার আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক।  তিনি যশোরের শেকহাটি এলাকায় ‘ওবায় বিন কাব’ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ছিলেন।  তার নামে ২০০৭ সালে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা হয়।  ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন আদালত।  র‌্যাব জানায়, আব্দুল কুদ্দুস ২০০৭ সাল থেকে ১০ বছর দুই মাস সাজা ভোগ করে ২০১৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান।  এরপর হুজি-বি’র সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দল পুনর্গঠনে যশোর, মাগুরা এবং নড়াইলের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় নিয়মিত গোপন বৈঠক করতে থাকেন। বৈঠকগুলোতে ঢাকা থেকে হুজি-বি’র উচ্চপর্যায়ের নেতারা অংশগ্রহণ করতেন।

তিনি বলেন, ২০২২ সাল নাগাদ আব্দুল কুদ্দুস মোটামুটিভাবে এসব এলাকায় একটি শক্তিশালী হুজি-বি ইউনিট গঠনে সক্ষম হন।  মাদ্রাসার যুবকদের মনে সমাজবিদ্বেষী মনোভাব ছড়িয়ে দিতেন তিনি।  জঙ্গি তৎপরতার মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার কথা বলে তাদের মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে হুজি-বিতে টানতেন তিনি।

লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রেফতার সিরাজুল ইসলাম ২০০১ সালে যশোর কোল্ড স্টোরেজে নাইটগার্ডের চাকরি করতেন।  চাকরিরত অবস্থায় ২০০১ সালে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ-এ যোগ দেন তিনি।  সিরাজুল ইসলাম যশোর জেলার হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের  রিক্রুটার এবং অর্থনৈতিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।  এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশে হুজি-বি’র অভ্যন্তরীণ ব্যয়ভার বহনে অর্থ যোগানের ব্যবস্থা করতেন তিনি।  ছদ্মবেশে রং মিস্ত্রির কাজও করতেন সিরাজুল।  এছাড়া হুজি-বি’র সাংগঠনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব গোয়েন্দা নজরদারি চালাতেন তিনি।  ২০১০ সালে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়।  ওই মামলায় ২০১১ সালে গ্রেফতার হন তিনি।  এরপর ২০১২ জামিনে মুক্ত হয়ে মামলার আর কোনো শুনানিতে হাজির হননি।  তখন থেকেই তিনি খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে থাকেন।  তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম হলেও আত্মগোপনে থাকাকালে তিনি বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আরো বলেন, ২০২২ সাল থেকে আব্দুল কুদ্দুস এবং সিরাজুল ইসলামসহ আরও জঙ্গি সদস্যরা মিলে একটি বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করে আসছিলেন।  সেই পরিকল্পনাকে সফল করার জন্য এরইমধ্যে তারা বেশ তৎপরতা চালাতে শুরু করেন এবং নিয়মিত গোপন বৈঠকের মাধ্যমে তাদের কর্মপরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, কার্যপদ্ধতি এবং কর্মী সংগ্রহের কাজ বেগবান করেন।