ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অধিকতর সতর্কতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সে আলোচনা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মতামতে এ সিদ্ধান্ত অনেকটা চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রোহিঙ্গাদের যেন কেউ কোনোভাবেই আসন্ন নির্বাচনে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ভোটের আগে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে আরও তৎপরতা বাড়ানোর কথা ওঠে এসেছে।
সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ‘সিল’ করার কথা উঠলেও পুরোপুরি বন্ধ না করে, জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতকারী রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর নজরদারিসহ গোটা এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার কথা এসেছে। ভোটের কাজে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উপ-ক্যাম্পগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারদের পরিবর্তন না করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, প্রতিদিনই নতুন নতুন রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে যেন অনুপ্রবেশ না বেড়ে যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্থ হবে এমন কোনো কার্যক্রম রোহিঙ্গাদের করতে দেওয়া হবে না। সরকার এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না। ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারে, এটা নিশ্চিত করতে হবে।