জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি শুরু

শিশু ও কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম ধাপের টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। উদ্বোধন শেষে তিনি জানান, নিবন্ধন ছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) টিকা গ্রহণের কোনো সুযোগ থাকছে না।
তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে মেয়েদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা কার্যক্রম আমরা শুরু করেছি। প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েরা এই টিকা কর্মসূচির আওতায় থাকবে। টিকা নিতে হলে প্রথমে টিকা গ্রহণকারীকে ভ্যাক্স ইপিআই অ্যাপে জন্মসনদ দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
খুরশীদ আলম বলেন, প্রথম ধাপে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী এবং স্কুলে পড়ে না এমন ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের বিনামূল্যে এই টিকা দেয়া হবে। কর্মসূচির আওতায় ঢাকা বিভাগে ২৩ লাখ কিশোরীকে এই টিকা দেয়া হবে।
স্বাস্থ্যের ডিজি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে মোট ১৮ দিন এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে। তার মধ্যে প্রথম ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও স্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেয়া হবে। পরের ৮ দিন নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে ও স্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা দেয়া হবে।
জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের সব জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২০ লাখ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে, যা চলবে ১৮ দিন। এ সময় ২০ লাখ টিকা দেয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-গ্যাভি এই টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তায় করছে।
সারাদেশের অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ কিশোরীকে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আগস্ট মাসে দেশের বাকি পাঁচ বিভাগে দেয়া হবে এইচপিভি টিকা।