জয় বাংলা কনসার্টে লাখো তরুণের উচ্ছ্বাস

মুখরিত এম এ আজিজ স্টেডিয়াম

বাংলা ব্যান্ডের তালে তালে লাখো তরুণের চিত্ত জেগে উঠল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে। ঢাকার বাইরে প্রথম জয়বাংলা কনসার্টে চট্টগ্রামের তরুণদের মধ্যে গত ক’দিন ধরে যে উচ্ছাস উদ্দীপনা দেখা দিয়েছিল, তারই প্রতিফলন ঘটেছে মাঠে। লাখো তরুণ-তরুণীর উচ্ছ্বাসে ধ্বনিত হল সময়ের লাগাম ধরে সামনে বাড়ার প্রতিশ্রুতি। চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জয় বাংলা কনসার্ট যেন পরিণত হলো তরুণদের আগামীর পথ চলার জয়ধ্বনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শত ভাষণের একটি। আর একাত্তরে মুক্তিকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। এই ভাষণকে স্মরণ করে তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ২০১৫ সাল থেকে ইয়াং বাংলার নিয়মিত আয়োজন এই জয় বাংলা কনসার্ট। এবার ৮ম কনসার্ট অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের ব্যান্ড তীরন্দাজের গান দিয়ে শুরু হয় কনসার্ট। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে মঞ্চে উঠে কার্নিভাল। এরপর পর্যায়ক্রমে মেঘদল, অ্যাভোয়েড রাফা, লালন, ক্রিপটিক ফেইট, নেমেসিস, চিরকুট, আর্টসেল তাদের পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসে। প্রতিটি ব্যান্ডদল ৪৫ মিনিট করে পরিবেশনার সময় পেয়েছে। মঞ্চে এসেই জাগরণের গান ও স্বাধীন বাংলা বেতারের গানসহ স্ব-স্ব ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানগুলো গেয়ে মাতিয়ে তোলেন শিল্পীরা। কনসার্টে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাউজান উপজেলা থেকে থেকে কনসার্টে যোগ দেওয়া সাদিয়া আফরিন বলেন, চট্টগ্রামে এই আয়োজনে নারীদের এই অংশগ্রহণই প্রমাণ করে নারী কতটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চট্টগ্রামবাসী অনেক খুশি। ধন্যবাদ জানায় ইয়াং বাংলাকে।

প্রথমবার তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মাততে রনি দত্ত বন্ধুদের সঙ্গে আসেন জয় বাংলা কনসার্টে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জয় বাংলা কনসার্ট হওয়ায় অংশ গ্রহণ করে খুশি লাগছে। আমরা বন্ধুরা একসাথে নেচে গেয়ে আনন্দ করছি।

এদিন জড়ো হওয়া তারুণ্যকে উদ্বেল করে বাংলা ব্যান্ডগুলো। তাদের কণ্ঠে ওঠে একাত্তরের রণাঙ্গনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রর শিহরণ জাগানিয়া গান। এসব গানের সাথে নতুন প্রজন্মের পছন্দের রক মিউজিকের তাল তারুণ্যকে স্মরণ করিয়েছে একাত্তরের সেই দিনগুলোর কথা। চোখ ধাধানো আতশবাজির ঝলকানিতে মুগ্ধ তারুণ্য।

বহদ্দারহাট থেকে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মনসুর হাসান দেশ বর্তমানকে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চকে স্মরণে এই কনসার্টে বাংলা ব্যন্ডগুলো যখন স্বাধীনতার গানগুলো গায়, তখন আমাদের মধ্যে একটা আন্দোলন তৈরি হয়। দেশপ্রেমের একটা অনুপ্রেরণা আমরা পাই। ভীষণ এনার্জিটিক লাগছে।

স্টেডিয়ামে জয় বাংলা কনসার্টটি উপভোগ করেছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান এবং চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান রুহেল।

অনুষ্ঠান উপভোগ করতে এসে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জোনায়াদে আহমেদ পলক সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামের মাটি বীরদের মাটি। এ চট্টগ্রামে অনেক বিপ্লবী ও বীরের জন্ম হয়েছে। আমরা চাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের তরুণ-তরুণী ৭ মার্চের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হোক। দেশের সেবাই এগিয়ে আসুক। ৭ই মার্চের ভাষণ যে একটা স্প্রিরিট, এটাই ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সিআরআই এবং ইয়ং বাংলার উদ্দেশ্য।

ব্যান্ডদলগুলোর পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে বড় পর্দায় দেখানো হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। সেই ভাষণের আগে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসেন নৃত্যশিল্পীরা।

সন্দ্বীপ থেকে আসা সানজিদা হক বলেন, ভীষণ উপভোগ করছি। একদিকে আমরা যেমন আনন্দ করছি। তেমনি স্ক্রিনে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাষণ দেখছি, আগামীর তারুণ্যের নানা সমৃদ্ধিশীল কাজের ডকুমেন্টারিও দেখাচ্ছে, এটা দারুণ। যুদ্ধদিনের সেই গানগুলোর আজ শুনতে পারছি, এটা অন্যরকম অনুভূতি।
অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের গানগুলোসহ জনপ্রিয় গানগুলোর তালে নেচে গেয়ে মেতে ওঠেছে তারুণ্য।