জমি সংক্রান্ত বিরোধে ছয় বোনকে কুপিয়ে জখম করলো আপন ছোট ভাই

শরীয়তপুরের সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের চৌকিদারকান্দি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ভাইয়ের হামলায় ছয় বোন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মুজিবুর রহমান পাইকের ছেলে আফজাল পাইক (৩৫) ও তার স্ত্রী লামিয়া (৪০) জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আফজাল পাইক, তার স্ত্রী ও তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

এতে আফজালের আপন ছয় বোন সহ সাত জন আহত হন। আহতরা হলেন, শামসুদ্দিন গাজী (৩২), পেয়ারার বেগম (৩০), হাসনেআরা (৪০), হোসনেআরা (৩৭), রাবিয়া (২৭), শামসুন্নাহার (৪২) ও তানিয়া আক্তার (২৯)।
আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আহত হাসনেআরা জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে কিছুদিন আগে থানা পুলিশের মাধ্যমে ভাই বোনদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়। তারা ছয় বোন ও এক ভাই। তবে জমি ভাগ হওয়ার পরও তার ভাই আফজাল তা মেনে নেননি। তিনি বলেন,আমি আজ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে দেখি আফজাল আমার অংশের জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। আমি বাধা দিলে আফজাল ও তার স্ত্রী সাবাল ও দা বঁটি নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে বাঁচাতে আমার অন্য বোনেরা এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হয়। পরে আহতদের স্বামী ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আহত তানিয়া আক্তার বলেন, তার ভাই আফজাল জোরপূর্বক তাদের বোনদের অংশের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের মা বাধা দিলে আফজাল তাকে গালিগালাজ করেন। পরে মেজ বোন হাসনেআরা বাধা দিতে গেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আফজাল, তার স্ত্রী এবং সহযোগী বাবু মিলে হাসনেআরার ওপর হামলা চালায়। আমরা অন্য বোনেরা এগিয়ে গিয়ে বাধা ও প্রতিবাদ করলে পর্যায়ক্রমে আমাদের ওপরও হামলা করা হয়। আমরা ছয় বোনের একমাত্র ভাই, কিন্তু সে আজ যা করেছে তা কখনোই ক্ষমার যোগ্য নয়। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমিত সেনগুপ্ত বলেন,
আজ বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে কয়েকজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি তিনজনের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আহত কয়েক জন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।