সাঁওতাল,নেপালী,ওড়িয়া,বাঙ্গালী প্রায় ২০’টি পরিবারের বসবাস রাধানগরের ভুরভুরিয়া ছড়ার ওপারে।ছড়া পার হবার মতো তাদের নেই কোনো “ব্রিজ”।দীর্ঘদিন ধরে “ব্রিজ” ছাড়া চলছে তাদের কষ্টসাধ্য জীবন-যাপন।রাধানগরের ৬নং ওর্য়াডের বালিশিরা রিসোর্ট এর পাশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী “২০’টি পরিবার” শতাধিক লোকজন।ব্রিজ না থাকার ফলে তাদের উৎপাদিত কাঠাল,লেবু ও আনারস পরিবহন করে বাজারজাত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে অর্ধশত বছর ধরে।এতে করে তাদের চলাচল জীবন-জীবিকা দূর্বিষহ হয়ে পরেছে।তাদের ছড়া পারাপারে নেই কোনো ব্রিজ,যার ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বালিশিরা রিসোর্টের পাশে প্রায় ২০’টি পরিবারের প্রায় শতাধিক লোকজন স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে।তাদের গ্রামের সমক্ষে “ভুরভুরিয়া নামক একটি ছড়া রয়েছে”।ছড়াটি দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়ুয়া “ছাত্র-ছাত্রী” স্থানীয় লোকজন যাতায়াত করছে ঝুকিপূর্ণ ভাবে।শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওর্য়াড রাধানগরে, ছড়া’টি গ্রামের সমক্ষে বয়ে যায়।এ ছড়াটিকে কেউ কেউ বিষামণি ছড়া নামে ডাকে।তাদের যাতায়াতের জন্য বিকল্প কোনো সড়ক নেই।ছড়াটি পারাপারের জন্য নিজেরা তৈরি করেছে বাঁশের তৈরি সাঁকো।ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাঁকোটি প্রায় ভেঙে পড়ে।সাঁওতাল,ওড়িয়া,নেপালী,বাঙ্ গালী জাতি-উপজাতিরা মিলেমিশে বসবাস করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত ধরে। কাঠাল,লেবু, আনরস ও মৌসুমি ফল চাষাবাদ করে এবং পাশাপাশি গবাদিপশু লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এবিষয়ে এখানে বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মিয়া বলেন,শ্রীমঙ্গল পর্যটন নগরী হিসেবে বেশ পরিচিত।বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকায় অসংখ্য মানসম্মত হোটেল,মোটেল,গেস্ট হাউস,রেস্ট হাউস পর্যটকদের জন্য বিস্তৃত।দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে ছড়াটি পারাপারের ব্যবস্থা করে আসছি।সাঁকোটি বাঁশ দিয়ে তৈরি বলে খুব দুর্বল।যার ফলে আমরা প্রায় দূর্ঘটনার শিকার হই এবং কি ভারী বৃষ্টিতে বাঁশের তৈরি সাঁকো’টি ভেঙে যায় প্রায়।তিনি বলেন প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।এসব ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে ছড়াটি পার হয়। ছড়াটি পারাপারের সময় কখনো দূর্ঘটনার শিকার হতে হয় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের।ভারী বৃষ্টিতে বাঁশের তৈরি সাঁকো’টি ভেঙে পড়ে যায় প্রায়।
এবিষয়ে ৬৬ বছর বয়সী বুদ্ধি বাহাদুর বলেন শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকাটি এক সময় বসতি ছিলো নিতান্তই কম।সময়ের ব্যবধানে এলাকাটির আশপাশ জুড়ে ফাইভ স্টার থ্রি স্টার মানের অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠতে শুরু করে।বিশেষ করে এলাকাটি’তে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি।অর্ধশতবছর ধরে আমরা এলাকটি’তে বসবাস করে আসছি।গ্রামের সম্মুখে ভুরভুরিয়া ছড়াটি পারাপার হবার মতো ব্রিজ নেই। আমরা বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ছড়া’টি পার হই।ছড়া’টি পার হওয়ার মতো বিকল্প কোন সড়ক নেই।তিনি বলেন ভারী বৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে বাঁশের তৈরি একমাত্র সম্বল সাঁকো’টি পানির স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায়।যার ফলে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নবম শ্রেণির ছাত্র প্রীতম বাহাদুর (ছত্রি) বলেন,প্রতিদিন স্কুলে যেতে আমার খুব কষ্ট হয়। ছড়াটি পার হবার মতো ব্রিজ নেই, ছড়া’টি পারাপারে প্রায় সময় স্কুলের পোশাক ভিজে যায়।বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়া একদম হয়না।স্কুলে নিয়মিত যেতে পারিনা বলে স্যারের হাতে মাইর খেতে হয়।
স্থানীয়রা বলেন ছড়ার পারের বাসিন্দারা জীবন-জীবিকা চলাচল এক প্রকার বন্ধ হয়ে আছে। বছরখানিক আগে একটি ব্রিজ তৈরি করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে আমরা আবেদন করেছিলাম।আবেদনের কিছু দিন পর শ্রীমঙ্গল “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার” কাছে গেলে তিনি বলেন ব্রিজের জন্য “অনুমোদন” করে পাঠিয়েছি।স্থানীয়রা বলেন তবে এখনো কোনো কার্যক্রমের অগ্রগতি আমরা লক্ষ্য করছিনা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শ্রী ভানু লাল রায় বলেন এলাকাবাসীরা একটি ব্রিজ চেয়ে আবেদন করেছে।তিনি বলেন আমি অত্র এলাকার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলাম দশ বছর, এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আড়াই বছর এবং বর্তমানেও চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছি।আগামীতে বরাদ্দ আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু তালেব বলেন , আমাদের কাছে ভুরভুরি ছড়া নিয়ে দরখাস্ত দিয়ে গেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বর্ষাকালে স্কুলে যেতে পারে না। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ছড়াটি নিয়ে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে।ব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।