চোরে নিয়ে গেলো ‘মন্ত্রিত্ব’!

বাড়িতে চুরি হয়েছে।  পুলিশের কাছে সেই অভিযোগ জানানোই সঠিক কাজ বলে মনে করেছিলেন ঘানার এক মন্ত্রী।  কিন্তু এটি করতে গিয়ে যে উল্টো নিজে ফেঁসে যাবেন, যার কারণে প্রথমে মন্ত্রিত্ব হারাতে হবে, এরপর গ্রেফতার হতে হবে- সেসব নিশ্চয় ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেননি তিনি।  কিন্তু দুর্ভাগ্য তার! হয়েছে এমনটাই।

আদালতে  বৃহস্পতিবারের (২০ জুলাই) চার্জশিট অনুসারে, ঘানার স্যানিটেশন ও পানিসম্পদ মন্ত্রী সেসিলিয়া আবেনা দাপার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি হয়েছে।

এর মধ্যে নগদ অর্থ ছিল ১০ লাখ মার্কিন ডলার, তিন লাখ ইউরো এবং সাড়ে তিন লাখ ঘানাইয়ান সেডি।  এছাড়াও ৩৫ হাজার ডলার দামের বেশ কয়েকটি হ্যান্ডব্যাগ ও ৯৫ হাজার ডলারের অলংকারও খোয়া গেছে ৬৮ বছর বয়সী ওই মন্ত্রীর বাড়ি থেকে।

সেসিলিয়া অবশ্য আদালতের নথিতে উল্লেখিত অর্থের পরিমাণ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।  কিন্তু তাতে জনরোষ ঠেকানো যায়নি।

কয়েক মাস ধরে ঘানার মুদ্রার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন হচ্ছে।  এর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুতকারীদের দায়ী করেছেন অনেকে।

এ অবস্থায় সরকারেরই এক মন্ত্রীর বাড়িতে এত বৈদেশিক মুদ্রা থাকার খবরে চমকে ওঠে মানুষ।  দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেসিলিয়ার পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

এই বিতর্কের মুখে  শনিবার (২২ জুলাই) পদত্যাগ করতে হয় অভিযুক্ত মন্ত্রীকে।  বিগত পাঁচ বছর ধরে এই পদে ছিলেন তিনি।  ঘানার মন্ত্রিসভার তিন নারী সদস্যের একজন ছিলেন সেসিলিয়া।

অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেছেন, তদন্তে অবশ্যই তার সততার বিষয়টি সামনে আসবে।

কিন্তু পদত্যাগের পরেও জনতার ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি।  অবশেষে  সোমবার (২৪ জুলাই) গ্রেফতার করা হয় তাকে।

স্পেশাল প্রসিকিউটরের অফিস নিশ্চিত করেছে, বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিস চুরি হওয়া সংক্রান্ত দুর্নীতি ও দুর্নীতিজনিত অপরাধের সন্দেহে সেসিলিয়া দাপাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

ঘানার রাজধানী আক্রায় স্বামী ও মেয়ের সঙ্গে বিলাসবহুল বাড়িতে থাকতেন মন্ত্রী সেসিলিয়া।  সেখানে এক বা একাধিকবার চুরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূল সন্দেহটা গিয়ে পড়েছে বাড়ির দুই নারী গৃহকর্মীর ওপর।  তাদের সঙ্গে আরও তিন সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে সেসিলিয়ার স্বামী ড্যানিয়েল ওসেই কুফুর বাড়িতে ফিরে বেডরুমের ভেতর থেকে ‘অস্বাভাবিক আওয়াজ’ শুনতে পান।  পরে দেখেন, এক গৃহকর্মী দরজার পেছনে লুকিয়ে রয়েছেন।

এরপরেই দম্পতি বুঝতে পেরেছিলেন, বাড়ির জিনিসপত্র খোয়া গেছে।  কিন্তু তারা পুলিশের কাছে যেতে অপেক্ষা করেন সাত মাস পর্যন্ত।

পুলিশে অভিযোগ জানাতে তারা কেন এত দেরি করলেন তা স্পষ্ট নয়।  তবে সেই সময়ে অভিযুক্ত গৃহকর্মীরা অস্বাভাবিক খরচ করেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত এক নারী আক্রার উপকণ্ঠে একটি তিন বেডরুমের বাড়ি কিনেছেন।  ঘর সাজাতে কেনা হয়েছে একটি ডবল ডেকার ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন, চেস্ট ফ্রিজার, গ্যাস কুকার, ওয়াটার ডিসপেনসারও।

শুধু তা-ই নয়, ওই নারী তার প্রেমিককে দুটি গাড়ি কেনার জন্য অর্থ দিয়েছিলেন এবং এই যুগল অন্য একটি শহরে আরেকটি তিন বেডরুমের বাড়ি ও একটি স্টোর রুম ভাড়া নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেসিলিয়ার আরেক কর্মচারী নিজের তিন বেডরুমের বাড়ি তৈরি করতে চুরি করা অর্থের কিছু অংশ ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কিন্তু সদ্য সাবেক মন্ত্রীর কাছে কথিত এই বিশাল কেনাকাটায় ব্যয় করা অর্থ কোথা থেকে এসেছিল, তার উৎস কী ছিল, সেটি এখনো রহস্য।

পদত্যাগপত্রে সেসিলিয়া দাপাহ বলেছেন, তার কাছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও মিলিয়ন মিলিয়ন ঘানাইয়ান সেডি থাকার খবর… তিনি ও তার স্বামী পুলিশের কাছে যেভাবে রিপোর্ট করেছিলেন, সেভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

অবশ্য এই বিতর্কে সাবেক মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো। সেসিলিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে, দিনের শেষে আপনার সততা প্রতিষ্ঠিত হবে।

সূত্র: বিবিসি