চোরাচালান মামলায় এস এ পরিবহনের তিন কর্মকর্তা কারাগারে

চট্টগ্রামে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ফেব্রিক্স চোরাচালানের মামলায় এস এ পরিবহনের তিন কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ ড. আজিজ আহমেদ ভুঁইয়া এ আদেশ দেন।

ওই তিন কর্মকর্তা হলেন— এস এ পরিবহন খাতুনগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান, কাজীর দেউড়ি শাখার ম্যানেজার আবদুল করিম বাচ্চু ও প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার মোরশেদুল আলম চৌধুরী।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক উত্তম চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি এস এ পরিবহন কাজীর দেউরী অফিস প্রাঙ্গণ থেকে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কাভার্ডভ্যান বোঝাই ৮ দশমিক ৬ টন ফেব্রিক্স খোলা বাজারে বিক্রয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় গতকাল ৭ এপ্রিল অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নগরের কাজীর দেউড়ী এলাকার এস এ পরিবহনে রাত সাড়ে ৯টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সেখানে থাকা ট্রাকের ভেতর ৩৫৬টি প্যাকেজ (১২৮ টি বস্তা এবং ২২৮ টি রোল) সাদা, সাদা প্রিন্ট, হলুদ, জলপাই, হালকা বেগুনিসহ ৮টি ভিন্ন ভিন্ন রঙের ৮৬১২ দশমিক ৭৯ কেজি নিট ফেব্রিক্স পাওয়া যায়।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, আটক করা পণ্যচালানটির মালিকানা দাবি করেন টেরিবাজারের ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম। পরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর নিলামের মাধ্যমে ৩৫৪ রোল ফেব্রিক্স পণ্য কিনে নেয় নজরুল। অথচ যে পণ্যগুলা ট্রাক থেকে আটক করা হয় সেগুলোর গায়ে ২০২২ সালের বিভিন্ন তারিখের স্টিকার পাওয়া যায়। তাই পণ্যের দাবিদার নজরুলের বর্ণণা দেয়া পণ্যের সাথে আটককৃত পণ্য এক নয়। তাছাড়া আটককৃত পণ্যচালানের সাথে মূসক (মূল্য সংযাজন কর) চালানও পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি আটক করা ট্রাকের চালকের কাছ থেকে জানা গেছে, পণ্যচালানটি চরলক্ষা নামক স্থানে অবস্থিত একটি গার্মেন্টস গুদাম থেকে নিট ফেব্রিক্স লোড করা হয়। পণ্যচালান পরিবহনের পক্ষে দলিলাদি দেখাতে বললে গাড়িচালক বিক্রয় সংক্রান্ত দলিলাদি দেখাতে পারেন নি। এতে প্রমাণিত হয় যে কাভার্ড ভ্যানটি টেরি বাজার থেকে লোড করা হয়নি এবং এসএ পরিবহনের খাতুনগঞ্জ ব্রাঞ্চ থেকে বুকিং করা হয়নি। মোটকথা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা পণ্যগুলোর চোরাচালানই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক উত্তম চাকমা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি সংগ্রহ করা সিসিটিভির ফুটেজ আমরা দেখেছি। সেখানে দেখা গেছে রাত সাড়ে ৮টায় কর্ণফুলি থানার চরলক্ষা এলাকার একটি গার্মেন্টসের গুদাম থেকে নিট ফেব্রিক্স লোড করে রাত ৯টায় কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ পাশ হতে কর্ণফুলি শাহ আমানত সেতু হয়ে টোল প্লাজায় পৌছায়। সেখান থেকে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার পার হয়ে রাত সাড়ে ৯ টায় কাজীর দেউড়ী আসে। চালানটি অবৈধভাবে নজরুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের রাজীব সাহার কাছে পাঠাচ্ছিলেন। চালানটি বৈধ হলে ১৫ বা ১৬ হাজার টাকায় ট্রাকে করে নারায়ণগঞ্জ পাঠানো সম্ভব। কিন্তু ৫৫ হাজার টাকা খরচ করে এ চালান কেন কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো হলো সেটাই আমাদের সন্দেহের কারণ। পাশাপাশি এসএ পরিবহনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমাদের কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।