চায়ের দেশ সিলেটে আজ থেকে সাদা বলের লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ড। হতাশার বিশ^াপ শেষে আজ মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু টেস্ট সিরিজ। বিশ^কাপে দল নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে কম কথা শুনতে হয়নি কোচ-অধিনায়ককে। এখানেও কি দল নিয়ে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করবে টিম ম্যানেজমেন্ট? টেস্ট শুরুর আগে ঘুরেফিরে এ প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে অনেকের মনে। গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছেও রাখা হয়েছিল সে প্রশ্ন।
তবে টাইগার ক্যাপ্টেন টেস্টে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমার মনে হয়, ‘টেস্ট ক্রিকেটে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না। ব্যাটিং অর্ডার বা কোন সময় কে বোলিং করবে, সেটা নিয়ে মনে হয় না খুব বেশি অদলবদল হবে। আমি আশা করব, এই জিনিসগুলা একই রকম থাকবে। যে অধিনায়ক হোক বা যারা কোচিং স্টাফ আছে, তারা মনে হয়, এই বিষয় নিয়ে খুবই অবগত আছেন। আমার মনে হয় না খুব বেশি পরিবর্তন হবে।’
যে ফরম্যাটেই হোক না কেন, বাংলাদেশের দলের টপঅর্ডার ব্যাটিংয়ের অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরেই খারাপ। এবার টেস্ট সিরিজে কী হবে? ওপরের দিকের ব্যাটিং নিয়ে অধিনায়কের চিন্তাটাইবা কী? তার নিজের মানসিক প্রস্তুতি কেমন?
এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে শান্ত যা বলেছেন; তার সারমর্ম হলো, টেস্টের টপ অর্ডারে যারা আছেন, তিনি ছাড়া বাকি কেউ বিশ্বকাপ দলে ছিলেন না। আর যারা টেস্ট স্কোয়াডে আছেন, তারা এনসিএলে ভালো খেলে রান করেই দলে। তাই তার চিন্তা কম।
শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয়, টপ অর্ডারে জাকির-জয়-সাদমান-সৌরভ ভাই উনারা আছেন। সঙ্গে আমি আছি একটা ম্যাচ খেলেছি। তারা তো এনসিএলে খেলেছেন, বিশ্বকাপে ছিলেন না। আমার মনে হয় তাদের খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে, সবাই মোটামুটি রানের মধ্যে ছিল। এটা একটা দিক যে তাদের বিশ্বকাপের সঙ্গে কোনো মিল নেই। আমাদের (বাকিদের) কথা যদি বলেন, (বিশ্বকাপে) আমাদের অবশ্যই খারাপ সময় গেছে। তবে সেটা ওয়ানডে ফরম্যাট ছিল, এটা টেস্ট ফরম্যাট।’
সিলেটের উইকেট দেখতে না পেরে হতাশ নিউজিল্যান্ড
টেস্ট ম্যাচের আগের দিন ক্রিকেটারদের উইকেট দেখা সাধারণ ব্যাপার। গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড দলের ক্রিকেটারদের এই সাধারণ কাজটাই করতে দেওয়া হয়নি। বেশ কয়েকবার বলার পরও উইকেট দেখতে দেওয়া হয়নি সাউদি-উইলিয়ামসনদের। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ড দলের খেলোয়াড়েরা অসন্তুষ্ট।
সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলন শেষে নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক টিম সাউদিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি না কেন দেখতে দেওয়া হয়নি। আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন।’ সিলেট স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জয়দীপ দাস এ নিয়ে বলেছেন, ‘এটা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। উইকেট-সম্পর্কিত বিষয় কিউরেটরের দায়িত্ব।’
অস্ট্রেলিয়ার টনি হেমিং আপাতত সিলেট স্টেডিয়ামের কিউরেটরের দায়িত্বে। এর আগে ভারতীয় কিউরেটর সঞ্জীব আগারওয়াল চাকরিচ্যুত হওয়ার পর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সহকারী কিউরেটর কবির হোসেন সিলেট স্টেডিয়ামের দায়িত্বে ছিলেন। এবার নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য সিলেটে ডাকা হয়েছে হেমিংকে।
সিলেট স্টেডিয়ামের মূল মাঠে অনুশীলনের সুযোগ না পেয়েও হতাশ কিউইরা। আগামীকাল খেলা, কিন্তু এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দল মাত্র একবার মূল মাঠে ফিল্ডিং অনুশীলন করতে পেরেছে। তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছেন সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের দুই নম্বর মাঠে। আজ মূল মাঠ হয়ে দুই নম্বর মাঠে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের অনুশীলন করতে দেখে কিউইরা। মূল মাঠে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের নেট সেশন করতে দেখে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার উইল ইয়াং বেশ অবাক হয়েই বলছিলেন, ‘দেখো, ওরা কোথায় অনুশীলন করছে!’
নিউজিল্যান্ড দলের খেলোয়াড়েরা উইকেট দেখতে না পারলেও বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা রীতিমতো উইকেট নিয়ে গবেষণা করেছেন। গতকাল সকালে মাঠে ঢুকেই সবার আগে উইকেট দেখতে যান তাইজুল ইসলাম। একনজর চোখ বুলিয়ে যান বোলিং অনুশীলনে।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। হাঁটু গেড়ে বসে তিনি খুঁটিয়ে দেখলেন উইকেট। সঙ্গে ছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। দুজন মিলে প্রায় ২৫ মিনিট উইকেট নিয়ে আলোচনা করলেন। নাজমুল সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন ও হাবিবুল বাশারের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা করেন হাথুরুসিংহে।
দুপুরে দুই দলের অনুশীলন শেষে অবশ্য কিছুক্ষণের জন্য উইকেটের চেহারা দেখার সুযোগ হয়েছে দুই কিউই ক্রিকেটার উইল ইয়াং ও ডেভন কনওয়ের। মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আগে উইকেটের কাভারের নিচে মাথা ঢুকিয়ে কিছুক্ষণ উইকেটের মাঝখানটা দেখার চেষ্টা করেছেন দুজন। তাতে উইকেট-রহস্য কতটা উদ্ঘাটিত হলো, কে জানে!