চান্দগাঁওয়ের হোটেল রিগ্যাল প্যালেস যেন ‘অঘোষিত পতিতালয়’, ৩৯ জন আটক

পতিতালয় এবং অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য নিরাপদ স্থান হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকার হোটেল রিগ্যাল প্যালেস আবাসিক। যা এখন ‘অঘোষিত পতিতালয়’ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ শুক্রবার (২৫ আগস্ট) অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ৩৯ জনকে হাতেনাতে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার নিহাদ আদনান তাইয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন ‘হোটেল রিগ্যাল প্যালেস আবাসিক’ হোটেল থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ৩৯ জন নারী পুরুষকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় একটি নন এফ আই আর প্রসিকিউসন রুজু করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, সুজন দাশ, গিয়াস উদ্দিন, মো. ফাহিম, মো. লিটন, মো. মহিউদ্দিন, মো. জাবেদ হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম রাকিব, মো. ইলিয়াছ, মো. ইব্রাহীম প্রঃ জনি, মো. শিপন সর্দার, মো. আব্দুল সামাদ, সজিব, শাহদাৎ, আসিফ হাওলাদার, টিকলু বসাক, সাখাওয়াত হোসেন, রবিউল হোসেন রবি, মো. সেকান্দর হোসেন, জীবন আরা, কলি আক্তার, নাঈমা আক্তার, নুসরাত জাহান বেবি, রৌশন আরা, আসমা আক্তার, ইয়ানুর গেম, জোৎন্না আক্তার, সুমি আক্তার, আকলিমা খাতুন ফেরদৌস, ফেরদোসী জাহান, ফারবিনা আক্তার রাফা, নাফিজা জান্নাত, ফারজানা আক্তার, ফরিদা ইয়াসমিন, জাহানারা আক্তার, ফরহাদ ইসমা, মো. ইমাদ উদ্দিন, মো. আব্দুর রাকিব অভি, মো. আরিফ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম হিরু।

এর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে হোটেলটিতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুই ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) পীযূষ চন্দ্র দাস বলেছিলেন, আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে রিগ্যাল প্যালেসে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল। বিষয়টি জানার পর হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে দুই ম্যানেজারকে গ্রেফতার এবং কয়েকজন যৌনকর্মীকে আটক করা হয়। হোটেল মালিক সাইফুল ইসলাম হিরুর নির্দেশেই মূলত এই অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল তারা।

সূত্রে জানা গেছে, একই মালিকের চান্দগাঁও থানা মোড়ের সাতকানিয়া গেস্ট হাউস নামে আরেকটি আবাসিক হোটেলেও এ ধরণের কার্যকলাপ চলে আসছে।

২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর সাতকানিয়া গেস্ট হাউস ও চান্দগাঁও রেস্ট হাউসে অসামাজিক কার্যকলাপের সময় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছিল।

পতিতালয় পরিচালনার দায়ে হোটেল মালিক সাইফুল ইসলাম হিরুসহ ৭ কর্মচারীর বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলাও হয়েছিল। কিন্তু এখনও এই হোটেল মালিক পতিতালয় চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশ বর্তমান/এআই