চাঁদাবাজ থানা!

আইজিপি’স কমপ্লেইন সেলে শত অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানা পুলিশের নানা অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে আইজিপি’স কমপ্লেইন মনিটরিং সেলে। যেখানে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় গড়ে ওঠা দোকান, হোটেল, মোটেল ছাড়াও পতেঙ্গা থানা এলাকার সব চোরাকারবারী, জুয়ারবোর্ড, খুচরা-ভাসমান ব্যবসায়ী, শিল্পকারখানা, কন্টেইনার ডিপোসহ প্রায় প্রতিটি বৈধ ও অবৈধ প্রতিষ্ঠান থেকে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও পরিদর্শক (তদন্ত) বিভিন্ন কায়দায় উপ-পরিদর্শকের সহায়তায় মাসোহারা আদায় করছেন বলে অভিযোগ এনেছেন ৬১ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি পক্ষ। এ যেন পতেঙ্গা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়ম নিয়ে অভিযোগের পাহাড়! গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ৬১ জনের পক্ষে অভিযোগটিতে (সিরিয়াল নং-১০৩) স্বাক্ষর করেন স্থানীয় মাসুদ করিম নামে এক ভুক্তভোগী।

যদিও অভিযোগে তার নাম লেখা আছে মাসুদ আলম। তবে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবিরুল ইসলামের দাবী, অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়, বরং একটি পক্ষ অনৈতিক সুবিধা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এসব করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ আছে, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় ৪০০ দোকান থেকে দৈনিক ৪০০/৫০০ টাকা, সৈকতের নৌকা, নাগরদোলা, রাইড, ঘোড়া, স্পিডবোট, বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল থেকে মাসিক মাসোহারা, সমুদ্রে চোরাকারবারীদের থেকে বড় অংকের মাসোহারা, বিভিন্ন ডিপো থেকে চুরি হওয়া তেল বিক্রীর দোকান থেকে মাসোহারা, জুয়ার বোর্ড থেকে মাসোহারা, অবৈধ টমটম থেকে মাসোহারা, বিভিন্ন সড়কে অবৈধভাবে ফুটপাত দখলকারীদের থেকে মাসোহারা, ভাঙ্গারী ও স্ক্র্যাবের দোকান থেকে মাসোহারা, কন্টেইনার ডিপো থেকে মাসোহারা, ইলিশ মৌসুমে দাঁদন ব্যবসায়ি থেকে মাসোহারা, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে মাসোহারা, জুট ফ্যাক্টরি, পলি ফ্যাক্টরি, সাবান, কয়েল ও বেকারিসহ বেশকিছু কারখানা থেকে মাসোহারাসহ আরও নানান খাত থেকে বড় অংকের মাসোহারা নেন বলে দাবী করেন অভিযোগকারীরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে অভিযোগকারী মাসুদ করিম দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ৬১ জনই ভুক্তভোগী, অভিযোগে উল্লেখিত বক্তব্য শতভাগ সত্য। এছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ থাকা পুলিশের সহযোগিতায় চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যগুলো উঠে পতেঙ্গার তিন ঘাটে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার সাধারণ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ব্যবসায়ীক, জমি সংক্রান্ত ঝামেলা হলে থানা এসে হাজির হয়। কারণে-অকারণে সাধারণ মানুষকে ধরে চালান দেয়, সন্ধ্যার পর কেউ বের হলেই এলাকায় টহল পুলিশ ধরে নিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। যেকোন ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হয়। শিল্পমালিক, দোকানদার, মাছ ব্যবসায়ী, তরকারি ব্যবসায়ী, হকার, পণ্য বিক্রেতা কেউ বাদ যান না এদের চাঁদা থেকে। এসব নিয়ে আইজিপি’স কমপ্লেইন মনিটরিং সেলে অভিযোগ করেছি। অভিযোগের সত্যতা যাছাই করে এর প্রতিকার পাবেন বলেও দাবী করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগে সাক্ষরকারী এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার পরিবারের বেশ কয়েকজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানী করছে। শুধু আমার পরিবার না, পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নং ওয়ার্ডের অনেক মানুষকে অকারণে হয়রানী করে যাচ্ছে থানা পুলিশ। এমনকি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় অনেককে মামলার আসামী করা হয়েছে বলেও দাবী তার।

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে চাইলে, পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবিরুল ইসলাম দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করেছে। তারপরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

নানা অনিয়ম নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে অভিযোগ তদন্ত এলে সহায়তা করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশ বর্তমান/এআই