চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর দুটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় আবাসিক হল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৪ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১ টার দিকে পুলিশের সহায়তায় এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় সোহরাওয়ার্দী ও আলাওল হল থেকে তিনটি রামদা, রড, ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল একটি স্টাম্প উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের দুইটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে শুক্রবার দুই দফা সংঘর্ষে জড়ায় পক্ষ দুইটি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হলের কক্ষ দখল, টেন্ডারের টাকা ভাগবাটোয়ারা ও গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিজয় গ্রুপের দুই পক্ষের মধ্যে কোন্দল চলছিল। গত সোমবার একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে আল-আমিনের অনুসারী কর্মীরা এ এফ রহমান হল ও আলাওল হল থেকে ফুল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হল প্রাঙ্গণে এলে দেলওয়ারের অনুসারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন কর্মী আহত হন। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যেই কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
শুক্রবার বিকেলে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আল আমিনের অনুসারীরা এফ রহমান ও আলাওল হল থেকে এসে সোহরাওয়ার্দী হলে অতর্কিতভাবে হামলা করে। পরে সোহরাওয়ার্দী হল থেকে দেলোয়ারের অনুসারীরা বের হলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এক পক্ষ ওপর পক্ষের দিকে অনবরত ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। ভাঙচুর করা হয় সোহরাওয়ার্দী হলের আটটি কক্ষ। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার পরই হলে তল্লাশি অভিযান চালায় প্রশাসন।
বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. শহীদুল ইসলাম জানান, ‘হলে বহিরাগত ও বহিষ্কৃতরা অবস্থান করছে এমন খবরে আমরা দুইটি হলে তল্লাশি চালিয়েছি। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা তল্লাশি অভিযানে আমরা বেশকিছু রামদা, রড, ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল উদ্ধার করেছি। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা যেকোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেব।’