চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা যায়নি এক বছর পরও । ২০ সদস্যের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আংশিক কমিটি দিয়েই চালাতে হচ্ছে কার্যক্রম।
সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ঘটনায় আট মাস আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ফারুক আমজাদ খান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আজিমকে সদস্য করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ক্ষুব্ধ নেতারা ঢাকায় গিয়ে নালিশ দেন।
এরপর গত ৩ মার্চ কমিটির নেতাদের ঢাকায় তলব করা হয়। বৈঠকে ২০ সদস্যের মধ্যে ১৫ জনই একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন ।
এদিকে, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত না হওয়ায় হতাশ অনেক নেতা-কর্মী দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। একাধিক নেতার অভিযোগ, দলীয় বিধি মেনে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়নি। ২০২২ সালের ৯ মার্চ তিন বছরের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে দেবাশীষ নাথ দেবু সভাপতি এবং আজিজুর রহমান আজিজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু এই কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিতে ১১ জন সহ-সভাপতি এবং তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রচার সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।
কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগর পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। এখন এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। আরেক পক্ষে আছেন কমিটির সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০২১ সালের জুন মাসে সম্মেলন ঘিরে তাদের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ে। বিভক্তির জের ধরে পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে দলে পৃথক বলয় তৈরি হয়। তবে কেন্দ্রের নির্দেশে সম্মেলন সফল করতে তারা একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করার পর তারা আবারও বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয় নিয়ে ঈদের পর কেন্দ্রীয় কমিটি সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু এখনও বসা হয়নি। আশা করি, আগামী ১০ মে’র মধ্যে কমিটি নিয়ে বৈঠক হবে।