চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণার পর সংগঠন দুটির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছিলো। এর জেরে দুটি জেলার পাঁচজন নেতা পদত্যাগও করেছিলেন। কিন্তু ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেলো চট্টগ্রাম মহানগরে!
গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ৪০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে। মাহাবুবুল হক সুমনকে কমিটির সভাপতি ও দিদারুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তারা নগর যুবলীগের আগের কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।
কমিটিতে অনেক ‘যোগ্য’ নেতাদের মূল্যায়ন না করা এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করার অভিযোগ থাকলেও সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এখনো পর্যন্ত কেউ পদত্যাগও করেননি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগর যুবলীগের নতুন কমিটির পরিচিত সভায় ৩৪ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিচিত সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন না, তারা কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট। তাই তারা অভিমান করে সভায় যাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, কমিটিতে অনেক সিনিয়র নেতাকে ডিঙিয়ে জুনিয়র নেতাকে শীর্ষ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পাওয়া দিদারুল আলম যুবলীগের বিগত কমিটির তিন নম্বর যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। অথচ তাকে ডিঙিয়ে চার নম্বর যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুবুল হক সুমনকে সভাপতি পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। এক নম্বর সহসভাপতি যাকে করা হয়েছে তিনিও ওই পদে স্থান পাওয়া অনেকের জুনিয়র। শুধু রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দিক থেকে নয়, বয়সেও তিনি অনেকে ছোট। যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘কমিটিতে কেন জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে তা আমি বলতে পারছি না। কিছুটা হতাশ হলেও আমি কমিটিকে মেনে নিয়েছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির একজন সহসভাপতি দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘ ‘কমিটি নিয়ে অনেকে হতাশ হয়েছেন। কিন্তু অনেকে ব্যক্তিস্বার্থে কমিটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না। যুবলীগ নেতাদের অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়িক স্বার্থে তাদের পদবির প্রয়োজন আছে। যে কারণে কাঙ্খিত পদ না পেলেও তারা কমিটি মেনে নিয়েছেন।’
কমিটিতে অনেক ‘যোগ্য’ নেতাকে স্থান না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রত্যাশী অনেক নেতাও স্থান পাননি। এদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন-নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্রসংসদের জিএস আরশেদুল আলম বাচ্চু, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন।
জানতে চাইলে এম আর আজিম দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘কেন্দ্র যাদেরকে যোগ্য মনে করেছেন তাদেরকে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। হয়তো কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে উপযুক্ত মনে করেননি।’
গত ৭ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের ৩২ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে এস এম রাশেদুল আলমকে সভাপতি ও মো. শাহজাহানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পরপরই দুজন সহসভাপতি নুরুল মোস্তফা মানিক ও রাজিবুল আহসান সুমন পদত্যাগ করেন।
এর আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে দিদারুল ইসলামকে সভাপতি এবং জহুরুল ইসলাম জহুরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই দুই সহসভাপতি মোহাম্মদ ফারুক ও সহ-সভাপতি পার্থ সারথী চৌধুরী এবং যুগ্ম সম্পাদক নাছির উদ্দিন মিন্টু পদত্যাগ করেন।