চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বের আলোচনায় ২৫ প্রার্থী
নওফেল-নাছিরের অনুসারীদের মধ্যে চলছে স্নায়ু লড়াই
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিতেও নতুন নেতৃত্ব গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মিলেছে ব্যাপক সাড়া। দুই শীর্ষ পদের জন্য এবার লড়ছেন প্রায় ১৪০০ প্রার্থী। এদের মধ্যে থেকেই শীর্ষ পদ নিশ্চিত হবে। কারা হচ্ছেন মহানগর ছাত্রলীগের আগামীর কাণ্ডারি, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এবার এতো জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়লেও নেতৃত্বের আলোচনায় আছেন মাত্র ২৫ জন। প্রায় দুই দশক ধরে মহানগর ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ এমইএস কলেজ এবং সিটি কলেজ-কেন্দ্রিক হলেও এবার নতুন কমিটির শীর্ষ দুটি পদে অন্তত একটি চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজ থেকে হবে বলে মনে করছেন অনেকে। পদপ্রার্থীদের মধ্যে প্রায় সকলেই স্ব-স্ব নেতার কাছে ধর্না ও নানাভাবে লভিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় যারা আছেন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের মাহমুদুল করিম ও সুভাষ মল্লিক সবুজ। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্রলীগের আশিষ সরকার, মো. তাহসিন, সাইফুল্লাহ সাইদ, তন্ময় দাশ, অঞ্জন শীল, অভি শীল ও সাইফুল ইসলাম। ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের মীর মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, ইবনে জামান ডায়মন্ড ও মো. আবিদ। ওমরগনি এম ই এস কলেজ ছাত্রলীগের জাহিদুল ইসলাম। হাজী মো. মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের মিজানুর রহমান, মায়মুন উদ্দিন, বোরহার উদ্দিন ও আনোয়ার পলাশ। থানা ছাত্রলীগ নেতা মো. নুরুন নবী সাহেদ, শহীদুল ইসলাম, রাকিব হায়দার, মিজানুর রহমান, আহসান হাবীব সেতু, মীর জিহান আলী সাদ, আব্দু রহিম জিসান ও অনিন্দ্য দেবের নাম। এছাড়াও জোর আলোচনায় আছে নগর ছাত্রলীগের আরাফাত রুবেল, ইমাম উদ্দিন নয়ন, হুমায়ুন কবির আজাদ, ফাহাদ আনিস, হাবীব রহমান হাবীব রহমান, মোরশেদুল আলম পাভেল, মুহাইমিনুল ইসলাম রহিম, রাশেদ চৌধুরী ও খালেকুজ্জামান।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রলীগের এবারের নেতৃত্ব বাছাইয়ে যোগ্যতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে সাংগঠনিক দক্ষতা, কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নেতৃত্বের যোগ্যতা। পাশাপাশি ক্লিন ইমেজ, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও তাদের নিকট জনপ্রিয় এবং বিভিন্ন সংকটে মানবিক কাজে যারা সক্রিয় ছিলেন। মূলত এসব বিষয় মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই ও বিচার বিশ্লেষণ শেষে ঘোষণা করবে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব।
গত ১ ফেব্রুয়অরি নগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করা শুরু করে তারা। ১৬ ফেব্রুয়ারি জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়ার শেষ দিন থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।
বিভিন্ন সূত্র মতে, নগর ছাত্রলীগের কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি বলয়ে বিভক্ত। তাদের একটি পক্ষ হচ্ছে প্রয়াত সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। এই পক্ষ বর্তমানে মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী বলে নিজেদের পরিচয় দেন। অপর পক্ষটি হলো নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলয়ের। এবারও ছাত্রলীগের নতুন কমিটির পদ ভাগিয়ে নিতে নওফেল ও নাছির অনুসারীদের মধ্যে চলছে স্নায়ু লড়াই।
নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু দেশ বর্তমানকে বলেন, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের জানিয়েছি। জীবনবৃত্তান্ত ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করেই দ্রুত কমিটি ঘোষণা করবেন বলে আশা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর দেশ বর্তমানকে বলেন, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে স্থান পেতে এক হাজার চারশ’র মতো বায়োডাটা জমা পড়েছে। সাংগঠনিক সক্ষমতা সম্পন্ন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও তাদের নিকট জনপ্রিয় এবং বিভিন্ন সংকটে মানবিক কাজে সক্রিয় ছিলেন মূলত তারাই আগামীর নেতৃত্ব পাবে। সব যাচাই-বাছাই করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন নুরুল আজিম রনি। সেসময় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরকে। যিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
দেশ বর্তমান/এআই