চট্টগ্রামে হাটভর্তি গরু, দাম শুনে পিছু হটছেন ক্রেতারা

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। কিন্তু চট্টগ্রাম নগরীতে এখনো জমে উঠেনি কোরবানির পশুর হাট। হাটগুলো পশুতে ভরপুর থাকলেও বেচাকেনা কম। দর-দাম যাচাই করেই সময় পার করছেন ক্রেতারা।

গত বছর ঈদুল আজহার আগের দিন পশুর হাটে চোখের জল ফেলেছিলেন বিক্রেতারা। হাটে ক্রেতা না থাকায় অনেকে লোকসান দিয়ে সস্তা দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এবার হাটের দৃশ্যপট ভিন্ন।

এবার নগরীর সব হাটেই গরুর দাম অনেক বেশি। গত বছরের চেয়ে এবার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

হাটের ইজারাদাররা বলছেন, গত বছর অনেক গরু বেপারী লোকসান দেওয়ায় এবার তারা দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন। অপরদিকে বাসায় রাখার জায়গা না থাকায় ক্রেতারা অনেকে এখনো গরু কিনছেন না। এ ছাড়া গত বছরের মতো এবারও ঈদের একদিন আগে দাম কমার আশায় ক্রেতাদের অনেকে গরু কিনছেন না। ঈদের দুই-একদিন আগে গরু কিনবেন। বেপারিরাও সেই অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। কিন্তু এবার ঈদের একদিন আগে খামারি ও গরু বেপারীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাটে গরুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

চট্টগ্রাম নগরীতে এবার সিটি করপোরেশনের তিনটি স্থায়ী এবং ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। তিনটি স্থায়ী পশুর হাটগুলো হচ্ছে সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় বাজার।

অস্থায়ী পশুর হাটগুলো হচ্ছে-চান্দগাঁও নূর নগর হাউজিং এস্টেট এলাকার কর্ণফুলী পশুর হাট, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রæপের খালি মাঠ, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরতলা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালি মাঠ, একই ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ, মুসলিমাবাদ টিকে গ্রুপের খালি মাঠ ও মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়পোল সংলগ্ন গোডাউনের পরিত্যক্ত মাঠ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড় এবং ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোড সিডিএ বালুর মাঠ।

এসব পশুরহাটে গত ২০ জুন থেকে পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু গত ছয় দিনে হাটে বিক্রেতাদের আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি। এবার ক্রেতা তেমন না থাকায় এবং পশুর চাহিদামাফিক দাম না উঠায় হতাশ বিক্রেতারা।
জানা গেছে, নগরীর সাগরিকা পশুর হাটে গত ৬ দিনে আনুমানিক ৬০০ গরু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু হাটটিতে এখনো প্রায় ৫০ হাজার গরু পড়ে আছে।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার আশিকুর রাব্বি চৌধুরী দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘এবার গরুর দাম চড়া। ক্রেতারা দাম শুনে পিছু হটছেন। যার ফলে বেচাকেনা কম।’

জানা গেছে, নগরীর মুরাদপুর বিবিরহাটে গত দুই দিনে প্রায় ১০০ গরু বিক্রি হয়েছে। এর আগে চার দিন তেমন বেচাকেনা হয়নি।
সোমবার (২৬ জুন ) বিকেল তিনটার দিকে বিবিরহাটে গিয়ে দেখা গেছে, গরু বেপারীদের কেউ পান চিবোচ্ছেন, কেউ আবার খোশগল্পে মত্ত। ক্রেতাদের চিরপরিচিত ভিড়বাট্টার দৃশ্য নেই। কেবল হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা এদিক-ওদিক ঘুরছেন।
কুষ্টিয়া থেকে ২০টি গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রেতা সগির মিয়া। গত চার দিনে মাত্র ১টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন তিনি। হতাশার সুরে তিনি দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘গত বছর যে গরুর দাম ছিল ১ লাখ টাকা, এবার ক্রেতারা ওইটার দাম বলছে ৭০-৭৫ হাজার। প্রতিটি গরুতেই ২৫-৩০ হাজার টাকা দাম কম বলছেন ক্রেতারা। গরু বড় করতে যে পরিমাণ শ্রম ও টাকা খরচ হয়েছে সেই অনুযায়ী বিক্রি করতে না পারলে অনেক লোকসানের মুখে পড়তে হবে।’

নগরীর জিইসি ও আর নিজাম রোড থেকে আসা ব্যবসায়ী সাইফুল আজম বলেন, ‘এই বাজার থেকে আমি প্রতিবছর কোরবানির জন্য পশু কিনে থাকি। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর গরুর খামারিরা বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন।’

জানতে চাইলে বিবিরহাটে হাসিল সংগ্রহকারী সিটি করপোরেশনের কর্মচারী মো. তারেক দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, ‘হাট এখনো পুরোদমে জমে ওঠেনি। ক্রেতারা দরকষাকষি করছেন। হাটে প্রায় হাজার খানেক গরু রয়েছে। হয়তো ঈদের দুই-একদিন আগে হাট সরগরম হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এবার কোরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে আট লাখ ৭৯ হাজার ৭১৩টি। এখানকার আট হাজার ২২০টি খামারে গরু রয়েছে আট লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন অনুসারে সঙ্কট আছে ৩৭ হাজার ৫৪৮টি কোরবানি পশুর। তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা গবাদি পশুতে এই চাহিদা পূরণ করা হবে। ফলে এবারও কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি থাকবে না। গত বছর কোরবানি দেওয়া হয়েছিল আট লাখ ১৩ হাজার ৫০টি গবাদিপশু।