চট্টগ্রামে রাসেল’স ভাইপারের দেখা না মিললেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে সর্বত্র

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও বিষধর সাপ রাসেল’স ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) নিয়ে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ আর আতঙ্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় এ বিষধর সাপ সম্পর্কে দিন দিন বেড়ে চলছে আতঙ্ক। সম্প্রতি চট্টগ্রামে এই বিষধর সাপের দেখা না মিললেও আতঙ্কের মাত্রা এতো বেশি ছড়িয়ে পড়েছে যে অন্য প্রজাতির সাপ দেখা মাত্রই রাসেল’স ভাইপার ভেবে হত্যাতে লিপ্ত হচ্ছে উৎসুক জনতা। শুক্রবার রাতে লোহাগাড়া উপজেলায় রাসেল’স ভাইপার আতঙ্কে পিটিয়ে মারা হয়েছে প্রায় ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি অজগরকে। কেউ আক্রান্ত হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এর চিকিৎসা সম্ভব। এদিকে এর প্রতিরোধক অ্যান্টিভেনম পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। অন্যদিকে চট্টগ্রামসহ দেশের কোথাও রাসেল’স ভাইপার দেখা গেলে বিনামূল্যে উদ্ধার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ।

গতকাল শুক্রবার রাতে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ডেপুটি পাড়া এলাকায় রাসেল’স ভাইপার আতঙ্কে পিটিয়ে মারা হয়েছে প্রায় ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর সাপ। জানা গেছে, ওই বাড়ির ফয়েজ আহমেদ এর মুরগির খামারে সাপটি দেখে এক যুবক চিৎকার দেয়। লোকজন এগিয়ে এসে রাসেল’স ভাইপার মনে করে সাপটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। সাপটি দেখতে মানুষের ভিড় জমে। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে এটি অজগর বলে নিশ্চিত করেন।

শনিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাপে কাটা রোগীর জীবন রক্ষার্থে জেলার প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনমসহ যাবতীয় চিকিৎসা প্রস্তুত রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিন বিকালে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী দেশ বর্তমানকে বলেন, বর্তমানে রাসেল’স ভাইপার নিয়ে এতো বেশি আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে যে, তা মানুষকে চরমভাবে আতঙ্কিত করছে। বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব একটু বেশি হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে দিনের বেলাতেও অনেকে বাড়ির আশপাশে বা বাগানে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। আবার অনেক জায়গায় নির্বিষ ঢোড়া সাপে কামড় দিলেও বলা হচ্ছে রাসেল’স ভাইপার কামড় দিয়েছে। সাপ দেখলেই মেরে ফেলা হচ্ছে। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের কোনো উপজেলায় রাসেল’স ভাইপারের আক্রমণের শিকার কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী উপজেলা হাসপাতাল ছাড়া বাকি সব হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের অভাব নেই জানিয়ে এই সাপ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. শেখ সফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের কাছে আজকের (শনিবার) হিসাব অনুযায়ী ৭০ ডোজ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। আরও যদি দরকার হয় তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয় সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে।

তিনি বলেন, সাপে কামড়ের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি জেনারেল হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় তাহলে সেখানে নিয়ে যেতে হবে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেনারেল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের কোনো অভাব নেই।

তিনি আরও বলেন, রাসেল’স ভাইপার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এই সাপ কামড়ানোর পর যদি সময়মত চিকিৎসা দেওয়া যায় তাহলে কোনো ক্ষতি হবে না। শুধু রাসেল’স ভাইপার নয়, যেকোনো সাপ কামড় দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। একই সঙ্গে রাতে ঘর থেকে বের হলে হাতে আলো এবং ছোটখাটো লাঠি রাখার কথাও বলেন তিনি।

চট্টগ্রামসহ দেশের কোথাও রাসেল’স ভাইপার দেখা গেলে উদ্ধার করে দেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রিতম সুর রায় জানান, কেবল চট্টগ্রামেই আমাদের ২০ জন সদস্য রয়েছেন। যেকোনো জায়গায় রাসেল’স ভাইপার বা বিষধর সাপ দেখলেই আমাদের হটলাইন নম্বরে (০১৩০৩-১২৯৯১৬) জানানো যাবে। আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিনামূল্যে সেটি উদ্ধার করে দেবেন।

রাসেল’স ভাইপার গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান গণমাধ্যেমে বলেন, চট্টগ্রামে রাসেল’স ভাইপারের হিস্ট্রি অনেক পুরনো। এখানকার মানুষের এই সাপ নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই।