‘পার্বত্য-উপকূলীয় অঞ্চলে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যুব অংশগ্রহণ’- এ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে ‘বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’র আয়োজনে গ্লোবাল অ্যালাইন্স ফর ইমপ্রুভড নিওট্রিশনের সহায়তায় ও এক টাকায় বৃক্ষরোপণ’র ব্যবস্থাপনায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশনে যুব ছায়া সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন খানসা রহমান। চট্টগ্রাম বিভাগীয় যুব ছায়া সংসদে ছায়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাইবা আক্তার এবং বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন তাহমিনা আখতার। অধিবেশনে ছায়া খাদ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মোস্তফা কামাল পাশা, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে ছিলেন শেখ আব্দুল্লাহ্ ইয়াসিন। এছাড়াও সরকারি দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের যুব প্রতিনিধি সৈয়দা তানজিনা হাসান, কুমিল্লা-৪ আসনের যুব ছায়া সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ আসনের যুব ছায়া সংসদ সদস্য তানজিনা আক্তার। বিরোধী দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন কুমিল্লা-৩ আসনের যুব ছায়া সংসদ সদস্য রিয়াদ হোসেন এবং ফেনী-৩ আসনের যুব ছায়া সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলাম সৌরভ।
চট্টগ্রাম অধিবেশনে ছায়া সংসদ সদস্যগণ সংসদীয় রীতিতে প্রস্তাব সাধারণ বিধি—১৪৭ মতাবেক আলোচনা করেন। যুব প্রতিনিধিগণ তাদের স্ব স্ব আসনে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতীয়মান সমস্যাগুলো আগত অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন এবং এর সমাধানে যুব অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দাবী জানান। ছায়া সংসদ নেতা তাইবা আক্তার উপস্থিত শতাধিক তরুণ তথাপি সমগ্র চট্টগ্রাম বিভাগের তরুণদের প্রতি টেকসই ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়তে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, খাদ্যমন্ত্রীসহ ১২ জন সাংসদ প্রস্তাবনার পক্ষে বিপক্ষে তাদের যুক্তি তর্ক তুলে ধরেন। হ্যাঁ/না ভোটে প্রস্তাবনাটি অধিকতর আলোচনার জন্য গৃহীত হয়।
অধিবেশন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম, জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক বিদ্যুৎ চৌধুরী, পোর্টফলিও লিড গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশন (গেইন) মনিরুজ্জামান বিপুল, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক ও পরিবেশবিদ ইদ্রিস আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার টিপু সুলতান।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জমিও যেন আমরা ফেলে না রাখি। আমাদের শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তারা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে সে কারণে কৃষিতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এজন্য সরকার কৃষি যন্ত্রপাতিতে প্রণোদনা বৃদ্ধি করেছে। যার কারণে এখন কৃষক খুব সহজে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার আগেই ফসল ঘরে তুলতে পারেন। খাদ্য অপচয় রোধ, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যুব ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার দেয়া সময়ের দাবী। তোমাদের মতো যুবরা এগিয়ে আসলে খাদ্য অপচয় রোধ, পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত সম্ভব।
বক্তারা বলেন, অনেক সময় আমাদের যোগান বৃদ্ধির জন্য রাসায়নিক দ্রব্য, যা অনুচিত। আমাদের মায়েরা আমাদের মুখে কখনো বিষ তোলে দিতে চান না কিন্তু আমরা যে ভাজা পোড়া খাচ্ছি তাও কিন্তু বিষ। এটা যে আমরা জেনে করছি তা কিন্তু না। আমাদের এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে,জানতে হবে। নিরাপদ খাদ্য না খেলে মেধা বিকাশ হয় না। আমরা মুখরোচক খাবার খেতে বেশি পছন্দ করি। সেসবে যে ক্যামিকেল থাকে তা আমাদের মজা লাগে কিন্তু তা মেধা বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা। এসব আমাদের মেধাকে নষ্ট করে দেয়।
সংসদীয় অধিবেশনে যুব ছায়া সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যুব অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যাপারে একমত পোষণ করেন এবং তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, যুুবদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ, গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি, তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রণোদনা সৃষ্টির উদ্দেশে মহান জাতীয় সংসদের আদলে ২০১৪ সাল থেকে যুব ছায়া সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।