চট্টগ্রামে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু
চট্টগ্রাম নগরের আউটার স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। বৃহষ্পতিবার ( ১ ডিসেম্বর) মেলা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পক্ষে তঁর মা এবারের মেমলা উদ্বোধন করলেন।
প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী চলে এই মেলা। এ ছাড়া বিজয়ের মাসে নগরীতে ‘বিজয় শিখা’ প্রজ্বালন করা হয়। তবে ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা রয়েছে। এদিন মেলার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ১৩ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের গোলচত্বরে বিজয় শিখা প্রজ্বালন করা হবে।
এর আগে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজয় উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ১৯৮৯ সালের পর গত ৩৩ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। যা আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতানাকে শাণিত করার লক্ষ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে এবারও বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা প্রগতিশীল মন-মানসিকতা উদ্বুদ্ধ সবার কাছে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম হিসেবে সু-প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘ ৩৪ বছরে চলার পথে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তার গতি কখনও দুর্বার আবার কখনও শ্লথ ছিল। কখনও কখনও এ আয়োজন থমকে গেছে।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ এবার অসংখ্য অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করবে। যার মধ্যে থাকছে- মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণামূলক আলোচনা অনুষ্ঠান সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র প্রদর্শন, বিজয় শিখা প্রজ্বালন, বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি ও নারী সমাবেশ।
১৩ ডিসেম্বর বিকেল ৩ টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম গোলচত্বর সম্মুখে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় শিখা প্রজ্বালন করা হবে। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা। ১৫ ডিসেম্বর বিজয় মেলার প্রয়াত চেয়ারম্যান সাবেক সফল মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এবারের বিজয় মেলার আয়োজন।