উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার (২০২২) এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত বছরের (২০২১) তুলনায় পাশের হার কমেছে আট দশমিক ৮৯ শতাংশ। গত বছর পাশের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গতবছরের তুলনায় এবার পাশ ও জিপিএ-৫ কমেছে। বরাবরের মতো এবার পাশ ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে ছাত্রদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ১২ লাখের কিছু বেশি। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলো ৯৩ হাজার ৯৩৭ জন। এরমধ্যে ৯১ হাজার ৯৬০ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। অনুপস্থিত ছিলেন দুই হাজার ৩২ জন। অসদুপায় অবলম্বনের কারণে পরীক্ষাচলাকালীন পাঁচ জন পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়। অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭,৫৪০ জন ছাত্রী এবং ৪৪ হাজার ৪২০ জন ছাত্র। এ বার মোট পাস করেছে ৭৪ হাজার ৩২ জন। ছাত্র-ছাত্রী মিলে পাসের হার ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। গতবছর পাসের হার ছিলো ৮৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অবশ্য ২০২০ সালে পরীক্ষা না হওয়ায় পাশের হার ছিলো শতভাগ। গতবছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৯৯ হাজার ৬২৮ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এরমধ্যে ছাত্রী ৫০ হাজার ৩২২ জন এবং ছাত্র ৪৭ হাজার ৯৩৫ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
বিভাগওয়ারী পাশের হার: চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে বিভাগওয়ারী বিজ্ঞানে পাশের হার ৯১ দশমিক ৩০ শতাংশ। গতবছরে বিজ্ঞানে পাশের হার ছিল ৯২ দশমিক ২০ শতাংশ। মানবিকে পাশের হার ৭৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। গতবছর মানবিকে পাশের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাশের হার ৮৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতবছর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাশের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
কমেছে জিপিএ: এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় কমেছে জিপিএ (গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ)। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার ১২ হাজার ৬৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৭২০ জন। তবে অটোপাশের (২০২০ সালে) সময় ১২ হাজার ১৪৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পান।
সবসূচকে মেয়েরা এগিয়ে: গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৬৭০ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রীর সংখ্যা সাত হাজার ১০৬ জন এবং ছাত্রের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৬৪ জন। মোট পাসের মধ্যে ছাত্রী পাসের হার ৮২ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ছাত্র পাশের হার ৭৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত বছর ছাত্র পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৮৯ এবং ছাত্রী পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
বুধবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডর সম্মেলন কক্ষে ফলাফলের তথ্য উপস্থাপন করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌনে ১২টার সময় কম্পিউটারের বোতাম টিপে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। পরে বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।