চট্টগ্রামে তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ জুলাইয়ে শুরু

আগামী জুনে চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ‘তথ্য কমপ্লেক্স’ নির্মাণের কাজ।  নগরের বায়েজীদ লিংক রোডে ৫০ শতক জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ তথ্য কমপ্লেক্স।  এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন প্রস্তাবিত জায়গা গণযোগাযোগ অধিদপপ্তরের অনুকূলে হস্তান্তর করেছে।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন  প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।

সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড প্রচারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সারাদেশে সরকারি এ সংস্থাটির নিজস্ব কোনো ভবন নেই।  আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষে সরকার ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ‘জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প গ্রহণ করে। তিন বছরমেয়াদী এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।  এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ২৬টি জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।  শুরুতেই এক হাজার ১০৩ কোটি ৬৬ লাখ প্রকল্প ব্যয় ধরা হলেও বাড়ছে ব্যয়। গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে হবে সাততলা বিশিষ্ট বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স।  এছাড়া বাকি ১৯ জেলায় হবে পাঁচতলা বিশিষ্ট জেলা তথ্য কমপ্লেক্স।  জেলাগুলো হলো বান্দরবান, রাঙামাটি, কক্সবাজার, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, পঞ্চগড়, পাবনা, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর, বাগেরহাট, কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, জামালপর ও টাঙ্গাইল।  কুষ্টিয়া ও দিনাজপুর ছাড়া অন্য সব জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জায়গা সিলেক্ট করা হয়েছে।  এ দুটি জেলায় এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি।

এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামে স্বপ্নের তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জমির দলিল সম্পন্ন হয়েছে।নগরীর বায়েজীদ লিংক রোডস্থ উত্তর পাহাড়তলী মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ৫০ শতক অকৃষি খাস জমি গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অনুকূলে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত করা হয়।  গত ৬ এপ্রিল চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান রেজিস্ট্রি দলিল হস্তান্তর করেন  গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নিজামুল কবীরের কাছে।  সরকার প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ২৬টি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিলেও চট্টগ্রামেই সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গার দলিল বুঝে পেলো।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে যত ধরনের অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি সুবিধা থাকার প্রয়োজন, তার সবকটি থাকবে এ প্রকল্পে। দৃষ্টিনন্দন ভবন ছাড়াও এর ভেতর বড় পরিসরে আধুনিক কনফারেন্স ও সাউন্ড সিস্টেম থাকবে।  গণমাধ্যমকর্মী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করবে ভবনটি।   ভবনে থাকবে সিনেপ্লেক্স।এছাড়া ইন্টারনেট, সাইবার ক্যাফে, ইনফরমেশন কিয়স্ক, ডিজিটাল আর্কাইভ এবং ডিজিটাল ল্যাব থাকবে প্রকল্পে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইসিটি বিষয়াদিসহ ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হলে তথ্য কমপ্লেক্স একটি তথ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। অন্যদিকে সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র দেখার অভ্যাস গঠন ও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন সাধিত হবে।  পাশাপাশি স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সমাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য, জাতির পিতার কর্ম ও জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র দেখে সুস্থ ও বিনোদনমূলক প্রজন্ম এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।  আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত জেলা তথ্য কমপ্লেক্স ছাত্র-ছাত্রী, যুবসমাজ গণমাধ্যম কর্মী, চলচ্চিত্র প্রেমীদের মেলবন্ধণ হিসেবে কাজ করবে। তথ্য কমপ্লেক্স একটি উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।  দেশের সার্বিক অগ্রগতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বুধবার দেশ বর্তমানকে বলেন, ২৬টি জেলার মধ্যে ২৪টির জায়গা সিলেক্ট হয়েছে। বাকি দুই জেলায় চলমান রয়েছে। আশা করছি আগামি মাস দুয়েকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের কাজ দৃশ্যমান হবে।