প্রতি বছরের ন্যায় চট্টগ্রামে কৃতি ব্যক্তিবর্গেকে একুশে সন্মননা পদক প্রদান করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এবছর চট্টগ্রামের ১৭ জন বিশেষ ব্যক্তিকে দেওয়া হয় এই একুশে পদক। শিল্প, সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, গবেষনাসহ সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সন্মাননা পদক দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বইমেলায় চট্টগ্রামের এসকল কৃতি ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের হাতে স্মারক সম্মাননা পদক তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।
চট্টগ্রামে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ২০২৩ পেয়ে যারা সন্মানিত হয়েছেন তারা হলেন, শিল্প উন্নয়ন ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য এ.কে.খান (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বুলবুল চৌধুরী (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অশেষ অবদানের জন্য শহীদ মৌলভী সৈয়দ আহমদ (মরণোত্তর), ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মোহাম্মদ এজাহারুল হক (মরণোত্তর), শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য শাফায়েত আহমদ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশ ও মানোন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য এম.এ. মালেক, চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য যুগ্ন সন্মাননা পান ডাঃ পি বি রায় এবং ডা: শমীরুল ইসলাম বাবু (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য নূরুল আমিন, ক্রীড়ায় বিশেষ অবদানের জন্য আশীষ ভদ্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও গবেষণায় অবদানের জন্য আনোয়ার হোসেন পিন্টু, সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবিতায় যুগ্ন সন্মাননা পান খালিদ আহসান (মরণোত্তর) এবং রিজোয়ান মাহমুদ, প্রবন্ধ ও গবেষণায় আনোয়ারা আলম, কথাসাহিত্যে আজাদ বুলবুল, শিশুসাহিত্যে যুগ্ন সন্মাননা পান উৎপলকান্তি বড়–য়া এবং জসীম মেহবুব।
এসময় মেয়র বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া বাঙালি জাতিয়তাবাদের চেতনা। সে চেতনাকে ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছে বাংলাদেশের। স্বাধীন দেশে শিল্প সাহিত্য সাংবাদিকতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা অবদান রেখেছে তারা আমাদের গৌরব। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে সন্মাননা পদক দিতে পেরে আমি কিছুটা হলেও স্বস্তিবোধ করছি।
তবে আমি লজ্জিত যে, ভাষা আন্দোলনের এত বছর পরও আমরা সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারিনি। কেবল আইন করে বা জেল জরিমানা করে বাংলা ভাষার সর্বত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন বাংলা ভাষার প্রতি মানুষের মমত্ববোধ। আর স্বাধীনতার চেতনাবোধ জাগ্রত হলেই কেবল জাতির মুক্তি সম্ভব বলে মেয়র মন্তব্য করেন।
এসময় সম্মাননা পদক পেয়ে অনুভ‚তি প্রকাশ করে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম. এ. মালেক, আনোয়ারা আলম, এ কে খানের সন্তান এ এম জিয়াউদ্দিন খান। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার। বক্তব্য রাখেন বইমেলার আহবায়ক কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, চসিক সচিব খালেদ মাহমুদসহ অনেকে।